Trump-Iran Spat: ট্রাম্পের 'এক শটে সব শেষ' মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইরান, দিল কড়া প্রতিক্রিয়া

Saborni Mitra   | ANI
Published : Jul 05, 2026, 06:01 PM IST
Iran Hits Back at Trump Over One Shot Threat to Leadership

সংক্ষিপ্ত

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে 'এক শটে' শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর জবাবে ইরান বলেছে, আমেরিকার সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান—কোনওটাই নেই। আয়াতোল্লা খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য ঘিরে এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে।

রবিবার ইরানের বিরুদ্ধে মারাত্মক মন্তব্য করে বসলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্যে জড়ো হওয়া দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে তিনি চাইলে "এক শটে" শেষ করে দিতে পারতেন। এরপরেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে ইরান।

ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব

আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে ট্রাম্প এবং আমেরিকা—উভয়কেই একহাত নিয়েছে। দূতাবাস লিখেছে, যে আমেরিকা ৪ জুলাই তাদের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে, তারা খামেনির মৃত্যুর পর মানুষের শোকের ঢেউ বুঝতে পারবে না, কারণ তাদের "না আছে সভ্যতা, না আছে ইতিহাস, না আছে সম্মান।"

 

 

মানুষকে মেরে ফেলা যায়, কিন্তু তার আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতোল্লা খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু আসলে আপনারা একটা আতরের শিশি ভেঙে দিয়েছেন, যার সুগন্ধ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। আপনাদের এসব বোঝার ক্ষমতা নেই, কারণ আপনাদের সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান—কোনওটাই নেই।

দূতাবাসের তরফে আরও বলা হয়, "মানুষকে মেরে ফেলা যায়, কিন্তু তার আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতোল্লা খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু আসলে আপনারা একটা আতরের শিশি ভেঙে দিয়েছেন, যার সুগন্ধ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।" প্রয়াত নেতার শেষকৃত্যে বিপুল জনসমাগমের দিকে ইঙ্গিত করেই এই মন্তব্য করা হয়।

খামেনির শেষকৃত্য সম্পর্কে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প সম্প্রতি Axios-কে একটি সাক্ষাৎকার দেন, তারপরেই এই প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প খামেনির শেষকৃত্যে হাজার হাজার ইরানিবাসীর অংশগ্রহণ দেখে অবাক হয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, "আমার তো মনে হয়েছিল মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে। হয়তো এগুলো নকল কান্না।"

এরপরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ওয়াশিংটন চাইলে "এক শটে" ইরানের বাকি শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও শেষ করে দিতে পারে। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন যে, আমেরিকা এখনই সেটা করবে না, কারণ তারা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায়।

Axios-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ট্রাম্প বলেন, "ওরা সবাই তো ওখানেই ছিল। একটা শটেই আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা সেটা করব না, কারণ তাহলে আলোচনার জন্য আর কেউ থাকবে না।"

খামেনির শেষকৃত্য

প্রয়াত নেতার দেহ বর্তমানে তেহরানে শায়িত রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি অগণিত সাধারণ মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় খামেনির মৃত্যু হয়। তেহরান, কোম, নাজাফ এবং কারবালায় সপ্তাহব্যাপী শোকযাত্রার পর ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে।

ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রশাসন এই বিশাল শেষকৃত্যের আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে তারা অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং প্রতিরোধের বার্তা দিতে চাইছে। শিয়া রীতি মেনে হাজার হাজার মানুষকে কাঁদতে, স্লোগান দিতে এবং বুকে চাপড় মেরে শোক প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে।

একই সঙ্গে, এই পুরো আয়োজনটার একটা গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। একটি সুসজ্জিত খিলানের নীচে সাদা বেদিতে কফিনগুলি রাখা হয়েছে। তার পাশে শোকের প্রতীক কালো ব্যানার এবং ইরানের জাতীয় পতাকা—যা এই অনুষ্ঠানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে একসঙ্গে তুলে ধরেছে।

শত্রুর হামলায় খামেনির মৃত্যু শিয়া ইতিহাসে শাহাদাতের ধারণাকে আরও গভীর করেছে। এই সংস্কৃতিতে শোকযাত্রা, সম্মিলিত কান্না এবং শোক প্রকাশ—এগুলো সবই প্রতিরোধের শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Expensive Funerals: ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ৫ শেষকৃত্য! শীর্ষে আলেকজান্ডার, খামেনেই কত নম্বরে?
Donald Trump On Netanyahu: ফের মুখোমুখি হচ্ছেন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু! কে আসল 'বস' জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট