
ইরান হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি পুনরায় চালু করতে পারছে না, কারণ তারা তাদের পেতে রাখা সমুদ্র মাইনগুলো খুঁজে পাচ্ছে না এবং সেগুলো অপসারণ করার সক্ষমতাও তাদের নেই। মার্কিন কর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিগুলো দ্রুত পূরণ করতে না পারার এটাই প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্র চায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আরও বেশি জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হোক। এই সমস্যাটি শান্তি আলোচনাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা শুরু হবে। ইতিমধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছে। ইরানের প্রতিনিধি দলও পাকিস্তানে চলে এসেছে। উভয় পক্ষই যুদ্ধ বন্ধ করে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু হরমুজের বিষয়টি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এর মধ্য দিয়ে যায়। এটি বন্ধ করে দেওয়া হলে বা জাহাজ চলাচল কমে গেলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়। গত মাসে মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ছোট নৌকা ব্যবহার করে এই জলপথে ল্যান্ডমাইন পেতে রেখেছিল।
ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলারও হুমকি দিয়েছে
ফলস্বরূপ, তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং অন্যান্য জাহাজের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এটি ইরানকে যুদ্ধে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রটি এনে দেয়। ইরান কিছু জাহাজকে টোল দিয়ে একটি সংকীর্ণ পথ খোলা রেখেছিল, কিন্তু পুরো সমুদ্রপথটি সুরক্ষিত ছিল না।
ইরান কীভাবে মাইন পেতেছিল এবং সমস্যাটি কী?
মার্কিন কর্তাদের মতে, ইরান নির্বিচারে এবং অনিয়মিতভাবে সমুদ্র মাইন পেতেছিল। অনেক মাইনের রেকর্ড রাখা হয়নি। এমনকি যেখানে রেকর্ড রাখা হয়েছিল, তার কিছু ভেসে গিয়েছিল বা স্থানচ্যুত হয়েছিল। এখন, ইরান জানে না কতগুলো মাইন কোথায় পাতা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে যে জাহাজগুলো মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়তে পারে। তারা কিছু নিরাপদ পথের মানচিত্রও প্রকাশ করেছে, কিন্তু এই পথগুলো খুবই সীমিত। মাইন পাতার চেয়ে তা অপসারণ করা অনেক বেশি কঠিন। এমনকি মার্কিন সামরিক বাহিনীরও দ্রুত ল্যান্ডমাইন অপসারণের পূর্ণ সক্ষমতা নেই। ইরানের তা আরও কম।
ইরানের কাছে শত শত ছোট নৌকা রয়েছে, যা জাহাজকে হয়রানি করতে বা নতুন মাইনক্ষেত্র স্থাপন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি ইরানি নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে এবং নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, কিন্তু ছোট নৌকাগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে, অবিলম্বে এবং নিরাপদে খুলে দেওয়া হলেই কেবল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সম্ভব। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন যে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন যে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার অর্থ হল ল্যান্ডমাইন শনাক্ত ও অপসারণে ইরানের অক্ষমতা। ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় এই বিষয়টি এখন একটি মূল আলোচ্য বিষয় হবে। যুক্তরাষ্ট্র আরও জাহাজের জন্য নিরাপদ চলাচলের দাবি করছে, অন্যদিকে ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করছে।
বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে না। ইরানের দাবি, ইজরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। মাইনক্ষেত্রের কারণে হরমুজ প্রণালীর সমস্যার সমাধান করা কঠিন। মাইন অপসারণে উভয় পক্ষেরই সক্ষমতা সীমিত। শীঘ্রই একটি নিরাপদ পথ খুলে না দেওয়া হলে তেলের দাম আবার বেড়ে যেতে পারে।