
Iran-Israel War Timeline: এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রায় দু'মাস পর ইরান আর ইজরায়েলের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। রবিবার রাতে ইরান ইজরায়েলের ওপর ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে হামলা চালায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইজরায়েলও পাল্টা জবাব দেয়। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (IRGC) দাবি করেছে যে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইজরায়েলি হামলার জবাবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। মিসাইল হামলার পর ইজরায়েলের বেশ কিছু এলাকায় সাইরেন বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হামলার পর ইরান তেহরানের ইমাম খোমেইনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের পশ্চিম অংশের আকাশপথও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা আঁচ করে ইরাক ৭২ ঘণ্টার জন্য এবং সিরিয়া ১২ ঘণ্টার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠা দুটি ইরানি ড্রোনকে তারা ধ্বংস করেছে। পরপর দু'দিন আমেরিকা এই ধরনের ড্রোন ধ্বংস করার খবর জানাল।
ইরান জানিয়েছে যে, আমেরিকার বারবার অবস্থান বদলানোর কারণে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আর এগোতে পারছে না। তেহরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার এবং বিদেশে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলারের সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি
আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানে হামলা করে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যু হয়।
২ মার্চ
ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ খামেনেই-এর মৃত্যুর বদলা নিতে ইজরায়েলের ওপর মিসাইল হামলা চালায়।
৮ মার্চ
আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর সাত দিন পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই-কে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
২৮ মার্চ
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরাও ইজরায়েলের ওপর মিসাইল হামলা শুরু করে।
৩ এপ্রিল
ইরান আমেরিকার একটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করে।
৫ এপ্রিল
আমেরিকা ইরানের ভেতরে অভিযান চালিয়ে তাদের পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
৭ এপ্রিল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন।
১০ এপ্রিল
পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনও শান্তিচুক্তি হয়নি।
১২ এপ্রিল
মার্কিন সেনা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলির ওপর অবরোধ শুরু করে।
৩ মে
আমেরিকা জাহাজের সুরক্ষার জন্য "প্রোজেক্ট ফ্রিডম" শুরু করে।
৫ মে
ইরানি হামলার পর আমেরিকা প্রোজেক্ট ফ্রিডম বন্ধ করার ঘোষণা করে।
৩১ মে
ইজরায়েল লেবাননের বোফোর্ট দুর্গ দখল করে নেয়।
৩ জুন
আমেরিকা ও ইরান একে অপরের ঘাঁটিতে ফের হামলা চালায়।
৭ জুন
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আকাশসীমা বন্ধ, মিসাইল হামলা এবং আমেরিকার সক্রিয় ভূমিকার কারণে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত संवेदनशील হয়ে উঠেছে। এই দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।