Iran Negotiation: মর্যাদা নিয়ে আলোচনায় রাজি তেহরান, জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

Saborni Mitra   | ANI
Published : May 11, 2026, 04:39 PM IST
Iran Open to Dignified Negotiations Amid Regional Tensions

সংক্ষিপ্ত

Iran-US Talk: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহে তেহরান 'মর্যাদা' ও 'কর্তৃত্ব' বজায় রেখে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে কূটনীতির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে 'একদমই গ্রহণযোগ্য নয়' বলে খারিজ করে দিয়েছেন। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার জানিয়েছেন যে আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলায় ইরানের সামনে একাধিক পথ খোলা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো 'মর্যাদা' ও 'কর্তৃত্ব' বজায় রেখে আলোচনায় বসা। ইরানের স্টুডেন্টস' নিউজ এজেন্সির (ISNA) খবর অনুযায়ী, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে দেশের সামরিক সাফল্যকে কূটনীতির মাধ্যমে আরও মজবুত করতে হবে।

ISNA জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান ফারাজ পুলিশ ফোর্সের কমান্ডার-ইন-চিফ এবং একদল সিনিয়র কমান্ডারের সঙ্গে একটি বৈঠকে এই মন্তব্য করেন। সেখানে তাঁকে ইরানের আধিকারিকদের ভাষায় 'সাম্প্রতিক চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ' চলাকালীন ওই বাহিনীর কার্যকলাপ সম্পর্কে একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় জোর রাষ্ট্রপতির

বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ISNA-এর মতে, পেজেশকিয়ান বলেন, "দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফারাজ বাহিনীর কাঠামো, সরঞ্জাম এবং তৃণমূল স্তরের ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও উন্নত করা প্রয়োজন।"

ইরানের ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরানের সামনে বেশ কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, "আমাদের সামনে এখন বিভিন্ন পথ খোলা আছে; হয় আমরা মর্যাদা, কর্তৃত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আলোচনায় প্রবেশ করব এবং ইরানি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করব, অথবা আমরা না যুদ্ধ, না শান্তি—এই অবস্থায় থাকব, কিংবা আমরা যুদ্ধ ও সংঘাতের পথেই চলব।" ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, তেহরানের পছন্দ হলো সামরিক শক্তি এবং জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে কূটনীতির পথে হাঁটা। তিনি বলেন, "যৌক্তিক এবং জাতীয় স্বার্থ-ভিত্তিক পছন্দ হলো, সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে যে জয় পেয়েছে, তা কূটনীতির ময়দানেও সম্পূর্ণ করা এবং মর্যাদা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে ইরানি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।"

বিদেশমন্ত্রী বাঘাইয়ের বার্তা

এদিকে, এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের প্রস্তাব শুধুমাত্র জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্যও তৈরি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির মতে, বাঘাই বলেন, "আমাদের প্রস্তাবে আমরা কেবল ইরানের বৈধ অধিকার তুলে ধরেছি। আমরা যা প্রস্তাব করেছি, তার সবই ছিল যুক্তিসঙ্গত এবং উদার।"তিনি আরও বলেন, "শুধু ইরানের জাতীয় স্বার্থের জন্য নয়, এই অঞ্চলের এবং বিশ্বের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্যও এই প্রস্তাব। কিন্তু আমেরিকার পক্ষ থেকে তাদের অযৌক্তিক দাবিতেই জোর দেওয়া হচ্ছে।"

বাঘাই বলেন, তেহরান নিজেকে এই অঞ্চলের এক দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে দেখে এবং জোরজবরদস্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। তিনি বলেন, "ইরান প্রমাণ করেছে যে সে এই অঞ্চলের এক দায়িত্বশীল শক্তি। আমরা দাদাগিরি করি না, বরং দাদাগিরির বিরুদ্ধে।"

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির খবর অনুযায়ী, বাঘাই আরও বলেন যে ওয়াশিংটনকে তেহরানের বিরুদ্ধে তাদের চাপ প্রয়োগের নীতি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, "আমাদের দাবিগুলো বৈধ: যুদ্ধ শেষ করা, অবরোধ তুলে নেওয়া, সামুদ্রিক দস্যুতা বন্ধ করা এবং মার্কিন চাপের কারণে বিভিন্ন ব্যাংকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা ইরানের সম্পদ মুক্তি দেওয়া।"

তিনি আরও যোগ করেন, "হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং এই অঞ্চলে ও লেবাননে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা ইরানের আরও কিছু দাবির মধ্যে অন্যতম। এই প্রস্তাবগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি উদার এবং বৈধ কাঠামো তৈরি করে।" বাঘাই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকা তার একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি এবং সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিতে অটল রয়েছে।"

ট্রাম্পের দাবি

এর আগে, রবিবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরানের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, তাতে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে সেটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে তেহরানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি 'তথাকথিত প্রতিনিধিদের' কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া পছন্দ করেননি। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, "আমি এইমাত্র ইরানের তথাকথিত 'প্রতিনিধিদের' প্রতিক্রিয়া পড়েছি। আমার এটা পছন্দ হয়নি—একদমই গ্রহণযোগ্য নয়! এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।" এই ঘটনাটি ঘটে যখন ইরান ইসলামাবাদ মারফত আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর জন্য আমেরিকার প্রস্তাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জমা দেয়। রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঘোষণা করে।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে বিষবাক্য মুনিরের, দিলেন ‘বেদনাদায়ক’ প্রতিশোধের হুমকি
Iran-US Talk: আবারও আলোচনার পথে ইরান-আমেরিকার, তবে তেহরানের কূটনৈতিক চাল মারাত্মক