North Korea: কিম জং নিহত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানো হবে পারমাণবিক হামলা, নয়া নিয়ম উত্তর কোরিয়ায়

Published : May 10, 2026, 01:37 PM IST
north korea missile launch japan coast ballistic missile test kim jong un south korea us military drill tension

সংক্ষিপ্ত

North Korea: দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নিহত হলেই, আর কোনও অপেক্ষা নয়, সোজা চালাও পরমাণু বোমা। উত্তর কোরিয়ার নতুন সাংবিধানিক সংশোধনে এমন সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ। ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র মৃত্যু থেকে 'শিক্ষা'নিয়ে কিমের দেশ এমন সিদ্ধান্ত নিল।

North Korea: দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নিহত হলেই, আর কোনও অপেক্ষা নয়, কোনও ভাবা-চিন্তা নয়, সোজা চালাও পরমাণু বোমা। উত্তর কোরিয়ার নতুন সাংবিধানিক সংশোধনে এমন সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ। কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন দেশটি এবার সংবিধানেই এমন বিধান যুক্ত করেছে, যার ফলে শীর্ষ নেতৃত্বের উপর হামলা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালানো যেতে পারে। বিশেষ করে কিম জং উন নিহত বা অক্ষম হয়ে পড়লে 'তাৎক্ষণিক' পারমাণবিক পাল্টা আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সংশোধিত নীতিতে। আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র মৃত্যু থেকে 'শিক্ষা'নিয়ে কিমের দেশ এমন সিদ্ধান্ত নিল। 'আমি মরলে, সবাই মরবে', এমন পথেই বেছে নিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বপ্রধান নেতা কিম উং উন।

সংবিধানে কী কী পরিবর্তন আনল উত্তর কোরিয়া

জানা গিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নীতির সংশোধিত আর্টিকেল ৩-এ বলা হয়েছে, যদি দেশের পারমাণবিক কমান্ড ও নিলব্যবস্থা বিপদের মুখে পড়ে, তাহলে পূর্বনির্ধারিত ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে। এই হামলা হবে 'ইমিডিয়েট' বা অবিলম্বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন কার্যত বিশ্বের কাছে স্পষ্ট বার্তা, নেতৃত্বকে সরিয়েও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রতিশোধ ঠেকানো যাবে না। ২০২২ সালে পাশ হওয়া পারমাণবিক বাহিনী সংক্রান্ত আইনের উপর ভিত্তি করেই এই নতুন সাংবিধানিক সংশোধন আনা হয়েছে। তবে এবার সেই নীতিকে সরাসরি সংবিধানের অংশ করে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। নতুন সংশোধনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, দেশের পারমাণবিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেন স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের চেয়ারম্যান, অর্থাৎ কিম জং উন নিজে। জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কীভাবে বিষয়টি প্রকাশ্যে এল

গত ২২ মার্চ পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশনে এই সংশোধন গৃহীত হয়। পরে মে মাসের শুরুতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (NIS) এই নিয়ে সে দেশের আধিকারিকদের ব্যাখা করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ইরানের ঘটনাবলির পরই উত্তর কোরিয়া এই সিদ্ধান্তে আরও আগ্রাসী হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার পর 'ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক' বা নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। সেই কারণেই কিম প্রশাসন এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাইছে, যাতে নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হলেও পারমাণবিক পাল্টা হামলা আটকানো না যায়।

দক্ষিণ কোরিয়াকে চিরকালীন শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা 

কিমের দেশের সংবিধানের নতুন সংশোধনে দক্ষিণ কোরিয়াকে আলাদা ও শত্রু রাষ্ট্র হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনের প্রসঙ্গ সংবিধান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তকে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া আরও জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পারমাণবিক অস্ত্র অপরিহার্য। সেই কারণে তাদের 'পারমাণবিক রাষ্ট্র' হিসেবে অবস্থান স্থায়ী এবং অপরিবর্তনীয়। বিদেশি শক্তির শাসন পরিবর্তনের যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত পারমাণবিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

China Politics: 'বিশ্বাসঘাতকতা'র অভিযোগে চিনের ২ প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড!
Today’s News in Bengali Live: China Politics - 'বিশ্বাসঘাতকতা'র অভিযোগে চিনের ২ প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড!