Hormuz Strait: ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছুঁড়ল ইরান, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় বড়সড় বিপদে ভারত?

Published : Mar 03, 2026, 06:07 PM IST
Hormuz Strait: ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছুঁড়ল ইরান, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় বড়সড় বিপদে ভারত?

সংক্ষিপ্ত

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় ভারতের চিন্তা বাড়ছে। কারণ, ভারতের অশোধিত তেলের ৮০ শতাংশই আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং ৭০ শতাংশ এলপিজি এই জলপথ দিয়েই আসে। ফলে এই পথ বন্ধ থাকলে ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

কায়রো: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত চতুর্থ দিনে পা রাখতেই ইরান তার ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ প্রয়োগ করল। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে তারা। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই যেকোনো জাহাজের ওপর হামলা চালানো হবে। বিশ্বের তেল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী। এই মুহূর্তে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। 

এই জলপথ বন্ধ থাকা মানে বিশ্ব বাণিজ্যের শিরদাঁড়া ভেঙে দেওয়া। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করার জন্য ইরানের এই এক পদক্ষেপই যথেষ্ট। রেভোলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার-ইন-চিফের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, “যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, আমাদের নৌসেনা সেই জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেবে।” সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এই প্রণালী।

সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলো থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত এই পথেই বিশ্বের বাজারে পৌঁছায়। ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের বাণিজ্য এক-পঞ্চমাংশ কমে যেতে পারে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে। মাত্র কয়েক দিনের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও গ্যাস ও তেলের সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। 

গত ফেব্রুয়ারিতে কয়েক দিনের জন্য এই পথে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছিল, তাতেই তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। যদিও আমেরিকান সূত্রের দাবি, প্রণালী এখনও খোলা আছে এবং জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়নি। এদিকে, এই সংকটের আবহে ভারত আবার রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য আলোচনা শুরু করেছে। সরকারি সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে অন্য কোনো উপায় থাকবে না। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা ভারতের জন্যেও বড়সড় সংকট তৈরি করবে। ভারতের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং ৭০ শতাংশ এলপিজি এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। 

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের কাছে বর্তমানে ৭৫ দিনের অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার মজুত আছে। কিন্তু যুদ্ধ যদি চলতে থাকে, তাহলে ভারতকে চরম সংকটের মুখে পড়তে হবে। এই পরিস্থিতিতেই রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে আবার আলোচনা শুরু করেছে ভারত। এর আগে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Donald Trump: তিনিই যীশু খ্রিস্ট! পোপের সমালোচনার পর ট্রাম্পের AI ছবি ঘিরে তোলপাড় নেটপাড়া
US-Iran Tension: যুদ্ধ থেকে কি পিছিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? চুক্তি ছাড়াই নতুন গেম প্ল্যান তৈরি