Iran-US War: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই! কূটনৈতিক অচলাবস্থা চরমে

Saborni Mitra   | ANI
Published : May 17, 2026, 09:42 PM IST
Iran Slams US Counterproposal as Diplomatic Deadlock Deepens

সংক্ষিপ্ত

Iran-US Tension: যুদ্ধ থামানোর জন্য ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের জবাবে আমেরিকা এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা তেহরানের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা থমকে গেছে। ইরানের মিডিয়া জানিয়েছে, আমেরিকা কোনও বাস্তবসম্মত ছাড় দিতে রাজি নয়। 

আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে। ইরানের মিডিয়া রবিবার জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে আমেরিকা কোনও সন্তোষজনক ছাড় দিতে রাজি হয়নি। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, ওয়াশিংটন পাঁচ-দফা একটি তালিকা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানকে শুধুমাত্র একটি পারমাণবিক কেন্দ্র চালু রাখতে হবে এবং তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভান্ডার আমেরিকাকে দিয়ে দিতে হবে।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, অর্থনৈতিক বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য চরমে। বিদেশে ইরানের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, তার "২৫ শতাংশও" ছাড়তে রাজি নয় আমেরিকা। এমনকি, ফার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনও ক্ষতিপূরণও দেবে না ওয়াশিংটন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, আমেরিকা আলোচনা শুরু হলেই সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করার শর্ত দিয়েছে। এদিকে, মেহের নিউজ এজেন্সি এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, "আমেরিকা কোনও আসল ছাড় না দিয়েই এমন কিছু সুবিধা আদায় করতে চাইছে, যা তারা যুদ্ধের ময়দানেও পায়নি। এর ফলে আলোচনা একটা অচলাবস্থার দিকেই এগোবে।"

তেহরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এল, যখন ইসলামিক রিপাবলিক যুদ্ধ থামানোর জন্য একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা পেশ করেছিল। ইরানের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলের অভিযানও রয়েছে। এছাড়া, ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলিতে আমেরিকার যে নৌ-অবরোধ চলছে, তা তুলে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে এক প্রেস কনফারেন্সে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবিও ছিল এই প্রস্তাবে। আমেরিকার দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ফার্স জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে তেহরানই এই কৌশলগত পথের পরিচালনা চালিয়ে যাবে। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই পথটি প্রায় বন্ধ করে রেখেছে ইরান।

কূটনৈতিক আলোচনা যখন থমকে গেছে, তখন সামরিক স্তরে কথার লড়াই শুরু হয়েছে। রবিবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের উপর আবার হামলা শুরু করার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, "হতাশ আমেরিকান প্রেসিডেন্টের জানা উচিত যে, তার হুমকি যদি বাস্তবায়িত হয় এবং ইসলামিক ইরানকে আবার আক্রমণ করা হয়, তাহলে তার দেশের সম্পদ এবং সামরিক বাহিনীকে এমন অভূতপূর্ব, আক্রমণাত্মক, আশ্চর্যজনক এবং তোলপাড় করা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।"

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Moscow Attack: মস্কোয় ড্রোন হামলায় ভারতীয়র মৃত্যু, আহত আরও ৩ জনের খোঁজ নিয়ে দূতাবাস
Alien Life: এলিয়েন খোঁজার পদ্ধতিতে বিপ্লব, ইজরায়েলি বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কার