তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার সাবমেরিন আটক করল ইরান

Published : Sep 09, 2026, 09:24 AM IST
তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার সাবমেরিন আটক করল ইরান

সংক্ষিপ্ত

ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালীর মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম সবচেয়ে আধুনিক ও স্মার্ট চালকবিহীন সাবমেরিন (আন্ডারওয়াটার ড্রোন) আটক করেছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে নৌবাহিনী জানিয়েছে, একটি জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে তারা 'ডাইভ-এলডি' (Dive-LD) হিসেবে চিহ্নিত এই চালকবিহীন ডুবো যানটি আটক করেছে।

ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালীর মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম সবচেয়ে আধুনিক ও স্মার্ট চালকবিহীন সাবমেরিন (আন্ডারওয়াটার ড্রোন) আটক করেছে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যম 'সেপাহ নিউজ'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নৌবাহিনী জানিয়েছে, একটি জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে তারা 'ডাইভ-এলডি' (Dive-LD) হিসেবে চিহ্নিত এই চালকবিহীন ডুবো যানটি আটক করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডুবো যানটি বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। তারা যানটির একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করে। সেপাহ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালীর আকাশে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি 'এমকিউ-৯ রিপার' (MQ-9 Reaper) ড্রোন ধ্বংস করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

আইআরজিসি-র ঘোষণার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীও একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একদিন আগে আঞ্চলিক জলসীমায় সার্ভে চালানোর সময় তাদের একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে ইরান যে ড্রোনটি আটক করেছে, সেটিই সেই ত্রুটিপূর্ণ ড্রোন কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু উল্লেখ করেনি। পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, "এটি চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে আঞ্চলিক জলসীমায় সার্ভে চালাচ্ছিল। ত্রুটিপূর্ণ ড্রোনটি ছিল একটি পুরনো মডেলের। এটি কোনও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল না এবং এতে কোনও গোপনীয় সোনার (sonar) বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।"

নৌ-সেনাদের ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিনের উপর নজর রাখার সাশ্রয়ী উপায় খুঁজতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চালকবিহীন নৌ-ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। 'অ্যান্ডুরিল' (Anduril)-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, 'ডাইভ-এলডি' ঘাঁটিতে ফিরে না এসেই টানা ১০ দিন পর্যন্ত কাজ চালাতে সক্ষম এবং এটি ৬,০০০ মিটার (১৯,৭০০ ফুট) গভীরতা পর্যন্ত ডুব দিতে পারে। মার্কিন সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'ডিফেন্সস্কুপ' (DefenseScoop)-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি 'ডাইভ-এলডি' ইউনিটের দাম প্রায় ২৫ লাখ (২.৫ মিলিয়ন) ডলার।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-ও দাবি করেছে যে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা করেছিল। তার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংস করেছে। সেন্টকম এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছে, গত দুই দিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওই যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার ইরানের দুটি প্রচেষ্টার জবাবেই যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। এরই মধ্যে, ইরানের উপর চাপ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দফতর ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থাকে তাদের 'স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস' (এসডিএন) বা বিশেষ তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে ইরানের অবশিষ্ট সব বিমান সংস্থাই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এল। ওয়াশিংটনের দাবি করেছে যে, "ইরানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সরকারের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে আসছে।" বিশেষ করে আইআরজিসি অস্ত্র সংগ্রহ, পরিবহন এবং কর্মী মোতায়েনের কাজে আপাতদৃষ্টিতে বেসরকারি বলে মনে হওয়া এসব বিমান সংস্থাকে ব্যবহার করে থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম ২০১১ সালের অক্টোবরে ইরানের বিমান সংস্থা 'মাহান এয়ার'-এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ৩০ জুলাই মাহান এয়ারের 'জেনারেল সেলস এজেন্ট' হিসেবে পরিচিত একাধিক কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু বানায়। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এমন সব গোপন ফ্রন্ট কোম্পানি (নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান), বিদেশি মধ্যস্থতাকারী এবং প্রতারণামূলক পণ্য স্থানান্তর বা ট্রানশিপমেন্ট রুটকেও আনা হয়েছে, যার উপর ভর করে ইরান যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত বিমান ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহ করে থাকে।

ইরানের অনমনীয় অবস্থান

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, "আগ্রাসী শক্তিগুলোকে চরম অনুশোচনায় বাধ্য না করা পর্যন্ত ইরানের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সর্বদা যুদ্ধের বিরোধী এবং তারা মনে করে যে, জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও (পশ্চিম এশীয়) অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাবিকাঠি হল যুদ্ধংদেহী মনোভাব থেকে বিরত থাকা।" তিনি আরও বলেন, "তবে, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ইরান যেমন আজ পর্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তেমনি আগ্রাসীরা চরম অনুশোচনায় না পড়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে এবং মহান ইরানি জনগণের অধিকারের রক্ষক হিসেবে অটল থাকবে।"

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

9/11 Heroes: ৯/১১-এর বীরদের বিশেষ সম্মান ট্রাম্পের, হোয়াইট হাউস থেকে বড় ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
Earthquake in Nepal: বিপর্যয়ের মধ্যেই ফের ভূমিকম্প নেপালে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫.৩