
ইজরায়েলের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি শুক্রবার সে দেশের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই ফলাফলের ভিত্তিতেই গঠিত হতে চলেছে ২৬তম নেসেট (ইজরায়েলের সংসদ)। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন সাংসদরা শপথ নেবেন। 'দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। তবে নেতানিয়াহু-পন্থী জোট মোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, যা সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে কম।
ইজরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট (Knesset)-এর মোট আসন সংখ্যা ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন হয়। নির্বাচনের প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়েছে। এর পরেই ২১টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইয়াশার। অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে বি'ইয়াহাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং দ্য ডেমোক্র্যাটস ও রাম ৮টি করে আসন জিতেছে। এছাড়া ইজরায়েল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবং ওৎজমা ইয়েহুদিত ৭টি করে আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে শাস এবং রিলিজিয়াস জিওনিজম ৬টি করে আসন পেয়েছে।
চূড়ান্ত সমীকরণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু-পন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং নেতানিয়াহু-বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট ৫৭,১৬,৬৬৫ জন ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটারের ৭৭.৯ শতাংশ। কিছু দল যেমন রিজার্ভিস্টস (২.৭%), পিপল অফ ইজরায়েল (১.৭%) এবং হারেদি পাবলিক (০.২%) ৩.২৫ শতাংশ ভোটের ন্যূনতম কোটা পার করতে না পেরে ছিটকে গেছে।
সব ধরনের সমীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শেষে আগামী ৪ নভেম্বর ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগের কাছে চূড়ান্ত সরকারি রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। এর পরেই ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। এদিকে, ভোটের ফলাফল বের হতেই নেতানিয়াহু এবং রিলিজিয়াস জিওনিজম-জেহুত পার্টির নেতা তথা অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় বসেছেন বলে স্থানীয় হিব্রু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
লিকুদ সবচেয়ে বড় দল হলেও নেতানিয়াহুর জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাই পরবর্তী নিয়ম মেনে রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। যার সরকার গড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাকেই তিনি প্রথম আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই নেতা ব্যর্থ হলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে, আর সেটাও সম্ভব না হলে দেশ আবার নতুন নির্বাচনের দিকে হাঁটবে।
চ্যানেল ১২ নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাম পার্টির নেতা মনসুর আব্বাস জানিয়েছেন, আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থনে ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু সরকার গড়া প্রায় অসম্ভব। আসলে নেতানিয়াহু-বিরোধী ইহুদি দলগুলো নিজেরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এই জট তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের প্রধান দলগুলোর মধ্যে কেবল 'দ্য ডেমোক্র্যাটস' আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জোট করার পক্ষে মত দিয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, লিকুদ যদি বিরোধী ইয়াশার, নাফতালি বেনেটের টুগেদার মুভমেন্ট এবং অ্যাভিগডোর লিবারম্যানের ইজরায়েল বেইতেনুকে পাশে পায়, তবে তাদের মোট আসন হবে ৬৬। কিন্তু বিরোধীরা আগেই নেতানিয়াহুকে সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাই এই জোটের সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, আরব খাতগুলিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো আপস হয়নি বলেই স্পষ্ট জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।