দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় ৩ সাংবাদিকের মৃত্যুতে তোলপাড়। এটা কি টার্গেট করে হামলা, নাকি যুদ্ধাপরাধ? হিজবোল্লাহ-সংঘর্ষের মাঝে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের উপর হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দক্ষিণ লেবাননে একটি হামলা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার একটি গাড়ির উপর হামলায় তিন সাংবাদিক প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন আল-মানার টিভির রিপোর্টার আলি শোয়েব এবং আল-মায়াদিনের রিপোর্টার ফাতিমা ফাতুনি ও ক্যামেরাম্যান মহম্মদ ফাতুনি। তাঁদের সংস্থা এই ঘটনাকে 'টার্গেটেড অ্যাটাক' অর্থাৎ জেনেশুনে করা হামলা বলে দাবি করেছে। তবে ইজরায়েলের দাবি কিন্তু অন্য।
27
ইজরায়েলি সেনা জানিয়েছে, তারা আলি শোয়েবকে নিশানা করেছিল কারণ তিনি হিজবোল্লাহর 'রিদওয়ান ফোর্স'-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেনার অভিযোগ, শোয়েব সাংবাদিকতার আড়ালে ইজরায়েলি ঘাঁটির তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, টার্গেট যদি একজনই হন, তাহলে বাকি দুই সাংবাদিকের মৃত্যু হল কীভাবে? এই বিষয়ে ইজরায়েল স্পষ্ট কোনও জবাব দেয়নি।
37
গত কয়েক সপ্তাহে ইজরায়েল ও হিজবোল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা অনেকটাই বেড়েছে। ইজরায়েল লেবাননে হিজবোল্লাহর প্রায় ২০০টি ঘাঁটিতে বড়সড় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, হিজবোল্লাহও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই গোটা সংঘাতের পিছনে ইরানের প্রভাব রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে, যা সংকটকে আরও গভীর করছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এই হামলাকে 'নির্লজ্জ অপরাধ' বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, সাংবাদিকদের নিশানা করা আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। যুদ্ধের সময় সাংবাদিকদের সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ফলে এই হামলা অনেক বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
57
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, একই দিনে অন্যান্য হামলায় বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীও নিহত ও আহত হয়েছেন। এতে স্পষ্ট যে, এখন শুধু সেনারাই নয়, সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমও এই সংঘাতের শিকার হচ্ছে। ইজরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ করছে বলে দাবি করলেও, লেবানন ও অন্যান্য দেশ একে আগ্রাসন বলে মনে করছে।
67
লেবাননে সাংবাদিকদের মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও গভীর করেছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে, নাকি বাড়তে থাকা সংঘাতের মাঝে বিষয়টি চাপা পড়ে যাবে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। সম্প্রতি সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। কিছুদিন আগেও এক নিউজ অ্যাঙ্কর ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার ঘটনা সামনে এসেছিল।
77
এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। একদিকে ইজরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার কথা বলছে, অন্যদিকে লেবানন ও অন্যান্য দেশ একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি না, সেই দিকেই এখন সকলের নজর।