
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এক বিস্ফোরক অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন। নতুন একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং ইজরায়েলের কিছু মানুষের পরিচালিত গোপন তহবিলের সঙ্গে কুশনারের যোগসাজশ রয়েছে।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে কুশনার লেখেন, "ভ্যানিটি ফেয়ার একটি বইয়ের কিছু অংশ ছেপেছে, যেখানে আমার বিরুদ্ধে জঘন্য এবং সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। লেখকের এই দাবিগুলো পুরোপুরি পাগলের প্রলাপ, বাস্তবে এমন কিছুই ঘটেনি। আমরা রেকর্ডেই এই সব দাবি অস্বীকার করেছি। তা সত্ত্বেও লেখক নিজের দাবির সপক্ষে এক টুকরো প্রমাণও দিতে পারেননি। কোনও ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, টাকা পাঠানোর রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের তারিখ বা যাচাই করা যায় এমন কোনও তথ্যই তিনি দিতে পারেননি।"
ট্রাম্পের জামাই আরও বলেন, "যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন আমি বিশ্বের অন্যতম চর্চিত ব্যক্তি ছিলাম। মিডিয়ার কড়া নজরদারি, একাধিক কংগ্রেসনাল তদন্ত এবং স্পেশাল কাউন্সেলের তদন্তের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে আমাকে। আমি নিজে থেকেই ওই তদন্তগুলোতে সহযোগিতা করেছি, ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছি। তখন তো এই ধরনের কোনও অভিযোগ ওঠেনি, কারণ এমন কিছু ঘটেইনি। এগুলো আসলে জঘন্য সব মনগড়া গল্প, যা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মোড়কে পেশ করা হচ্ছে। এটা কোনও সাংবাদিকতা নয়। এটা স্রেফ কল্পনা, ফিকশন আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের একটা ককটেল। যিনি এটা লিখেছেন, তিনি হয় মানসিকভাবে অসুস্থ, নয়তো কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।"
ম্যাথিউ কোলের লেখা 'প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মহম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট' নামের একটি বইয়ের কিছুটা অংশ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ভ্যানিটি ফেয়ার।
ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত ওই অংশে কোল লিখেছেন, "২০২০ সালের বসন্তের শেষের দিকে, আমার এক বিশ্বস্ত সোর্স আমাকে ফোন করে একটা খবর দেয়... ডাচ সরকার নাকি জ্যারেড কুশনারের ফোন হ্যাক করেছিল। দুবাইয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তিনি যখন ব্যবহার করছিলেন, তখন তাঁর ওপর নজরদারি চালানো হয়। সোর্স জানায়, আশ্চর্যের বিষয় হলো ওই অ্যাকাউন্টে থাকা কোটি কোটি ডলার এসেছিল আজারবাইজানের একটি ব্যাঙ্ক থেকে। সবচেয়ে বড় কথা, কুশনার নাকি দুবাইয়ের ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠিয়েছিলেন। যাঁদের টাকা পাঠানো হয়, তাঁদের মধ্যে একজন যুদ্ধবাজ নেতা (warlord), একজন ভাড়াটে সেনা এবং একজন প্রাক্তন হিটম্যানও ছিল। গল্পটা শুনে আমার কাছে তখন গাঁজাখুরি মনে হয়েছিল। কিন্তু এর ছ'মাস পর, আমি অন্য একজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বিভিন্ন সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকার কীভাবে ভাড়াটে সেনা ব্যবহার করে, তা নিয়ে কথা হচ্ছিল। কথার ফাঁকে আমি এমনিই তাঁকে জিজ্ঞেস করি, কুশনার এবং ইউএই-র অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠানোর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন কি না। আমার পরিচিত ওই ব্যক্তি হঠাৎ চুপ করে যান। তারপর শুধু বলেন, 'হ্যাঁ'।" যদিও কুশনারের আইনজীবী এমন কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্বই অস্বীকার করেছেন।
লেখকের দাবি অনুযায়ী, কুশনারের ফোন হ্যাক করে একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে যে, তাঁর কাছে দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস ছিল। এর মধ্যে একটি আজারবাইজানের এবং অন্যটি ইজরায়েলের। অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে সৌদি এবং আমিরশাহির রাজপরিবারের সদস্যরা টাকা জমা করতেন।