
পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoJK) ভিন্নমত দমনের জন্য ইসলামাবাদ বলপ্রয়োগ করছে, এই অভিযোগে পাকিস্তান সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যালায়েন্সের (JKNIA) চেয়ারম্যান মাহমুদ কাশ্মীরি। ব্রিটেনে পাকিস্তানি কনস্যুলেটের বাইরে ব্রিটিশ কাশ্মীরিদের আয়োজিত এক বিক্ষোভ থেকে তিনি এই বার্তা দেন।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মাহমুদ কাশ্মীরি দাবি করেন, পাক প্রশাসন হত্যা, জখম, অত্যাচার এবং গ্রেফতারের মতো পথ বেছে নিয়েও PoJK-এর সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করার জন্য। আর গায়ের জোরে মানুষের ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিকে শেষ করে দেওয়া যায় না।
এই বিক্ষোভে PoJK-এর আন্দোলনকারীদের সমর্থনে এগিয়ে আসেন বহু প্রবাসী কাশ্মীরি। কাশ্মীরি জানান, হাজার হাজার ব্রিটিশ কাশ্মীরি ওই অঞ্চলের মানুষের পাশে আছেন এবং অধিকারের জন্য তাঁদের লড়াইকে সমর্থন জুগিয়ে যাবেন।
JKNIA চেয়ারম্যানের মতে, পাকিস্তান সরকার বারবার শক্তি প্রয়োগ করেও মানুষের মনোবল ভাঙতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অসন্তোষের সমাধান বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। বন্দুক বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে চিরতরে দমন করা সম্ভব নয়।
মাহমুদ কাশ্মীরি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী এবং নেতাদের সশস্ত্র কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করার যে চেষ্টা চলছে, তা "ডাহা মিথ্যে আর আজগুবি কথা"।
শওকত নওয়াজ মির এবং উমর নাজিরের মতো আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এর চালিকাশক্তি কোনও অস্ত্র বা হিংসা নয়, বরং সাধারণ মানুষের সমর্থন। তিনি বলেন, "জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।" তাঁর মতে, ঐক্যবদ্ধ জনতার অধিকারের দাবির সামনে কোনও রাষ্ট্রীয় শক্তিই টিকতে পারে না।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ তীব্রতর হয়েছে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উত্তেজনার মধ্যেই মাহমুদ কাশ্মীরির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।