
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলেরা তাঁর স্বাস্থ্য ও জেলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেমান খান এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাসিমের দাবি, ৭৩ বছরের ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্জন সেলে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর বাবাকে দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা একটি ছোট, জানালাবিহীন কক্ষে রাখা হয়। কাসিমের মতে, ইমরান খান তাঁর এক চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ইমরান খানের ছেলেরা দাবি করেন, কারাগারে তিন বছর থাকার কারণে তাঁদের বাবার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন যে সময়মতো ও যথাযথ চিকিৎসা না পেলে সাজা শেষ হওয়ার আগেই মারা যেতে পারেন। কাসিম বলেন, তাঁর বাবা একজন নীতিবান মানুষ, কিন্তু শরীর তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছে না।
এদিকে, ইমরান খানের আন্তর্জাতিক আইনজীবী জ্যারেড জেনসার কারাগারের পরিস্থিতিকে ধীরগতির বিষপ্রয়োগ হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছেন। ইমরান খানের দ্বিতীয় পুত্র সুলেমান বলেছেন, গত ছয় মাস ধরে পরিবার ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। তিনি জানান, তাঁদের ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, গত ১০ মাস ধরে তিনি তাঁর বাবাকে দেখেননি।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সুলেমান বলেন, তাঁর বাবার আটক ও দুর্ব্যবহারের পেছনে পুরো ব্যবস্থাটিই জড়িত। তিনি এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুলেমান দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেস ও ব্রিটেনের হাউস অফ লিডার্সের সদস্যরা-সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুলেমান অভিযোগ করেন যে, এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ বাড়ছে। ইমরান খানের আন্তর্জাতিক আইনজীবী জ্যারেড জেনসারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী শাসন চালানোর অভিযোগ করেছেন।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাতে ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। এরপর তাঁকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়। পরে আবার তাঁকে জেলে ফেরানো হয়। যদিও কাসিম ও তাঁর ভাই সুলেমান খান তাঁদের বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, কোনও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করানো এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না পাকিস্তান সরকার।
সুলেমান বলেন যে, পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর প্রভাব যে বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে সত্য। এএনআই (ANI)-কে জানান, তাঁর বাবার উপর যে নির্যাতন ও খেয়ালখুশিমতো আটক বা গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে, তাতে সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, "আমরা যেসব ঘটনা ঘটতে দেখেছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলব—হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে সামরিক প্রভাব রয়েছে। আমার বাবার উপর নির্যাতন এবং তাঁকে খেয়ালখুশিমতো আটকে রাখার মতো বিষয়গুলোতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব স্পষ্ট। পুরো সামরিক কাঠামোর যে এতে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সে বিষয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই।"