US-Iran Deal: আমেরিকার প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, পাল্টা একগুচ্ছ শর্ত চাপালো ইরানও

Saborni Mitra   | ANI
Published : Aug 25, 2026, 06:50 PM IST
us pakistan army chief asim munir broker iran high stakes deal

সংক্ষিপ্ত

আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চায়। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধ করতে হবে। এই প্রস্তাব নিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে গিয়েছেন।

আমেরিকা ইরানের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং তাদের সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধ করে, তাহলে ওয়াশিংটন তাদের ওপর থেকে অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। আল আরাবিয়া ইংলিশ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই খবর সামনে এসেছে।

আমেরিকার শর্ত নিয়ে ইরানে পাক-সেনা প্রধান

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তার তেহরান সফরের সময় সরাসরি ইরানের কর্মকর্তাদের কাছে আমেরিকার প্রস্তাব পৌঁছে দেন। তেহরান যাওয়ার আগে এই সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হয় মুনিরের।

ইরান সফরে গিয়ে মুনির দেশের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে "স্পষ্ট এবং চূড়ান্ত" আলোচনা করেন।

আমেরিকার শর্ত

আল আরাবিয়া ইংলিশ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মুনির জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই হওয়া ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক (MoU) মেনে চলার জন্য ইরানের নেতৃত্বকে অনুরোধ করেন। মুনির উল্লেখ করেন যে, আগের দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া নষ্ট করার জন্য ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয়ই দায়ী।

ওয়াশিংটনের প্রস্তাব হলো, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলে এবং প্রাক্সি নেটওয়ার্কের হামলা বন্ধ করলে তারা সামুদ্রিক অবরোধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। মুনির এই বৈঠকে ইরানের মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করার ওপর জোর দেন।

আমেরিকার পাল্টা শর্ত ইরানের

তবে ইরানের নেতৃত্বও পাল্টা চাপ দিয়েছে। মোহসেন রেজাই জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানের হাতেই এবং আমেরিকাকে "তার আচরণ পরিবর্তন করতে হবে এবং সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলী বাস্তবায়নের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।"

পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আমেরিকার বিরুদ্ধে "অঙ্গীকার ভঙ্গের অসংখ্য উদাহরণ" তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমেরিকার কথা না রাখার কারণেই অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আসেনি।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মুনিরকে সতর্ক করে বলেন যে, আমেরিকার "জবরদস্তি এবং ধমক" কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিবেশী ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।

এই প্রস্তাব দেওয়া নেওয়া এমন এক সময় সামনে এল যখন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর সঙ্গে "নীরব কূটনীতি" চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি এবং শিপিং সেক্টরকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা তৈরির প্রস্তুতিও চলছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে বয়কট করার জন্য অন্য দেশগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও, কূটনৈতিক আলোচনা চালু থাকায় এখনও পর্যন্ত বড় কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা থেকে বিরত রয়েছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Birth Rate: সন্তান হলেই সরকার দেবে ৮ লাখ! জনসংখ্যা বাড়াতে বিরাট ঘোষণা দেশের প্রধানমন্ত্রীর
France Tornado: দশ বছরের সবচেয়ে বড় টর্নেডোয় লন্ডভন্ড ফরাসি গ্রাম! ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১,০০০ জন বাসিন্দার