
পিয়ংইয়ং: উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে (Kim Jong Un) ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে চলছিল নানা জল্পনা। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তিনি কোমায় চলে গিয়েছেন, এমনকী তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করতে শুরু করেছিলেন অনেকে। পাশাপাশি, কিমের বোন কিম ইয়ো জং দেশের ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন বলেও ছড়িয়ে পড়ে খবর। তবে এই সমস্ত জল্পনায় এবার কার্যত জল ঢেলে দিল উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন। সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে কিম জং উনের বেশ কয়েকটি নতুন ছবি। সেখানে মেয়ের সঙ্গে একটি প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শিশুদের জুতো ও পোশাকের একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করছেন কিম জং উন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মেয়ে। ছবিগুলি সামনে আসতেই কিমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সমস্ত দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছিল, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন উত্তর কোরিয়ার শাসক। কেউ কেউ আবার তাঁর মৃত্যুর খবরও ছড়িয়ে দেন। এমনকী, তাঁর চিকিৎসার জন্য চিন থেকে একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম উত্তর কোরিয়ায় এসেছে বলেও দাবি করা হয়। একইসঙ্গে জল্পনা শুরু হয়, কিমের অনুপস্থিতিতে তাঁর বোন কিম ইয়ো জং দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে চলেছেন। তবে এই দাবিগুলির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।
কিন্তু হঠাৎ কেন কিমের অসুস্থতা নিয়ে এত জল্পনা? সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি তাঁকে। 'এল্ডারলি পিপলস ডে' বা প্রবীণ দিবস-সহ কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাঁর অনুপস্থিতিই জল্পনার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে শাসকের শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য অত্যন্ত সীমিত থাকায় এই ধরনের অনুপস্থিতি ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে এর আগেও একাধিকবার আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ছবিগুলি তাঁর জনসমক্ষে উপস্থিতির প্রমাণ দিলেও, তা থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। আপাতত কিমের মৃত্যু, কোমায় চলে যাওয়া কিংবা তাঁর বোনের ক্ষমতা দখলের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ফলে উত্তর কোরিয়ার শাসককে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া জল্পনার বিষয়ে সতর্ক থাকাই প্রয়োজন।