
ইরানের ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল কুয়েত। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং জল শোধনাগারগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি বিবৃতি এবং একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলায় পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ, জল এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে, “দেশের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল শোধনাগার স্টেশনে হামলা হয়েছে... যার ফলে পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলার জেরে দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আপৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশেষ দল পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমেছে। তবে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যান্য রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, এই হামলা আরও বড় আকারের ছিল। ইরানের ড্রোন ও মিসাইল কুয়েতের তেল শোধনাগার এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের ভবন-সহ একাধিক শক্তি ও শিল্পক্ষেত্রেও আঘাত হেনেছে। এর ফলে বেশ কিছু জায়গায় আগুন লাগে এবং আপৎকালীন ভিত্তিতে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তারা এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। টেকনিক্যাল টিমগুলি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই ঘটনার জন্য ইজরায়েলকে দায়ী করেছে বলে খবর। যা এই অঞ্চলের জটিল এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাতের পরিস্থিতিকেই তুলে ধরছে।
এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিকাঠামোর উপর বাড়তে থাকা ঝুঁকিকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। বিশেষ করে জল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলি (সমুদ্রের নোনা জলকে পানের যোগ্য করার কারখানা) বার বার নিশানা হওয়ায় চিন্তা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ইরান-সম্পর্কিত সংঘাতের মধ্যে এই ধরনের পরিকাঠামোয় হামলা চলতে থাকলে তার মানবিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।