ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) 'মার্স এক্সপ্রেস' মহাকাশযান মঙ্গল গ্রহ নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছে। লাল গ্রহের ২০ কিলোমিটার উঁচু 'আরসিয়া মনস' আগ্নেয়গিরির কাছে ১৮০০ কিলোমিটার লম্বা এক অদ্ভুত বরফের মেঘ তৈরি হচ্ছে।
মঙ্গলের 'আরসিয়া মনস' (Arsia Mons) আগ্নেয়গিরির কাছে তৈরি হওয়া এই অদ্ভুত মেঘ নিয়ে নতুন গবেষণার ফল সামনে এসেছে। বিজ্ঞানীরা মডেলিং করে দেখেছেন, কোনো ধূলিকণা ছাড়াই জলীয় বাষ্প সরাসরি বরফে পরিণত হয়ে এই বিশাল মেঘ তৈরি করছে। কোনো গ্রহের বায়ুমণ্ডলে এমন ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি।
24
ধুলো ছাড়াই বরফের মেঘ
মঙ্গলের দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন সকালে ২০ কিলোমিটার উঁচু আরসিয়া মনস আগ্নেয়গিরির কাছে এই সাদা মেঘ দেখা যায়। 'আরসিয়া মনস ইলংগেটেড ক্লাউড' (AMEC) নামের এই মেঘ দ্রুত উবে যাওয়ার আগে প্রায় ১৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, যা ব্রিটেনের দৈর্ঘ্যের প্রায় দ্বিগুণ। প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের (LMD/CNRS) প্রধান গবেষক হোর্হে হার্নান্দেজ-বার্নাল জানিয়েছেন, পৃথিবীতে মেঘ তৈরিতে ধুলো বা লবণের কণা (হেটেরোজিনিয়াস নিউক্লিয়েশন) লাগলেও, মঙ্গলের এই মেঘ তৈরিতে কোনো ধূলিকণার দরকার হয় না।
34
মঙ্গলের চরম আবহাওয়া
পৃথিবীতে আমরা যে আর্দ্রতা দেখি, তার চেয়ে ১ লক্ষ গুণ বেশি আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকলে তবেই এই 'হোমোজিনিয়াস নিউক্লিয়েশন' সম্ভব। মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডল আর উঁচু আগ্নেয়গিরি মিলে বাতাসকে কয়েক মিনিটেই কয়েক কিলোমিটার ওপরে ঠেলে দেয়। ফলে মাত্র ১০ মিনিটে বাতাস ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঠান্ডা হয়ে যায়। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির 'মার্স এক্সপ্রেস' যান ২০১৮ সালে প্রথম এই মেঘ আবিষ্কার করে। এর ভিজ্যুয়াল মনিটরিং ক্যামেরা, হাই-রেজোলিউশন স্টেরিও ক্যামেরা, ওমেগা (OMEGA) এবং 'এক্সোমার্স ট্রেস গ্যাস অরবিটার'-এর সাহায্যে এই মেঘের ওপর নজর রাখা হয়েছে।
পদার্থবিদ্যার এই নিয়মকে (Exotic Physics) এতদিন বইয়ের পাতার তত্ত্ব বলেই ভাবা হতো। বিজ্ঞানীরা যখন তাঁদের কম্পিউটার সিমুলেশনে এই নিয়মটি যোগ করেন, ঠিক তখনই মার্স এক্সপ্রেসের দেখা মেঘের গঠনটি তাঁরা তৈরি করতে পারেন। এই আবিষ্কার শুধু মঙ্গল গ্রহ নয়, মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহের (Exoplanets) বায়ুমণ্ডল বুঝতেও বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। 'নেচার জিওসায়েন্স' (Nature Geoscience) জার্নালে (৭ অক্টোবর, ২০২৬) এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে।