
মেক্সিকোর স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো এবং ক্লাসরুমে মোবাইলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে হিংসাপ্রবণ এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। মেক্সিকোর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে ৩ নভেম্বর থেকে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলে গোটা স্কুলের সময় মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। তবে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন-নির্ভরতা কমানো। সরকারের মতে, মোবাইল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়ুয়াদের মনোযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও পড়াশোনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন নিয়মে
কেন আপত্তি অভিভাবকদের?
মেক্সিকোর সিনালোয়া ও তামাউলিপাসের মতো হিংসাপ্রবণ এলাকায় অভিভাবকদের একাংশ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মোবাইল। গত ২২ অক্টোবর সিনালোয়ার এসকুইনাপায় পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া একটি বাসে মোটরবাইক থেকে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। বাসে এক ডজনেরও বেশি পড়ুয়া ছিল। আতঙ্কে বাসের ভিতরে আসনগুলির আড়ালে আশ্রয় নেয় তারা। আহত হন বাসচালক। এই ঘটনার পর সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মেক্সিকোর শিশু অধিকার সংক্রান্ত সংগঠন REDIM-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ০-১৭ বছর বয়সিদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন সংগঠিত অপরাধ সংক্রান্ত হিংসার শিকার হয়েছে।
সরকারের যুক্তি কী?
মেক্সিকোর শিক্ষামন্ত্রী মারিও দেলগাদোর বক্তব্য, শিশুদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি আসক্তি এবং তার ফলে তৈরি হওয়া সমস্যা কমানোই সরকারের লক্ষ্য। অন্যদিকে, গবেষকদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম পড়ুয়াদের মনোযোগের ঘাটতি, উদ্বেগ ও মানসিক চাপে প্রভাব ফেলতে পারে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৪টি দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফ্রান্স, ব্রাজিল, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া ও কোস্টারিকাতেও এ ধরনের বিধিনিষেধ চালু হয়েছে।