
নেপালের সবচেয়ে গভীর হ্রদ শে-ফোকসুনডোতে ট্রেকিং করতে গিয়ে প্রবল তুষারপাতে আটকে পড়েছিলেন ৬ ভারতীয় পর্যটক। সোমবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ডোলপা জেলা থেকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। দোপলার চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার জুনু হামাল এএনআই-কে এই উদ্ধার অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুটি ধাপে পর্যটকদের উদ্ধার করা হয়। প্রথমে দু'জন মহিলাকে এয়ারলিফ্ট করে জেলা সদরে আনা হয়। এরপর আটকে পড়া জায়গা থেকে বাকি চারজনকে উদ্ধার করা হয়।
জুনু হামাল এএনআই-কে বলেন, "হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে দুই মহিলাকে জেলা সদরে নামানো হয়, তারপর আটকে পড়া এলাকা থেকে বাকি চারজনকে আনা হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থাও এখন স্বাভাবিক।" দোপালার বুদ্ধ রুরাল মিউনিসিপ্যালিটির ৪ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শে-ফোকসুনডো হ্রদের দিকে যাওয়ার সময় ওই ৬ ভারতীয় পর্যটক আটকে পড়েন। শে-ফোকসুনডো রুরাল মিউনিসিপ্যালিটির ৪ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝে নুমলা পাস এবং বাগলা পাস এলাকায় তাঁদের শেষবার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
জেলা আধিকারিকের মতে, ওই এলাকায় ঢোকার জন্য পর্যটকদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না। এমনকি স্থানীয়দের সতর্কতা উপেক্ষা করেই তাঁরা যাত্রা চালিয়ে গিয়েছিলেন। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ওই অঞ্চলে প্রবল তুষারপাত শুরু হয়েছিল। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের নাম মৌমিতা হালদার, পিয়ালী কোলে, জাজালা ত্রিবেদী কুমার, আদিত্য সিংহ, দিপলিনা বিশ্বাস এবং রাজেশ দে।
রবিবারই এই উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বারবার তা পিছিয়ে যায়। ওড়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নেপাল সেনার একটি হেলিকপ্টার নামানোর চেষ্টা বাতিল করা হয়। এরপর সিমরিক এয়ারের একটি হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও, বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবশেষে সোমবার সকাল ৬টায় উদ্ধারকাজ আবার শুরু হয়। আর তাতেই ৬ ভারতীয় পর্যটককে সফলভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
উত্তর-পশ্চিম নেপালের কর্নালি প্রদেশের ডোলপা জেলায় অবস্থিত শে-ফোকসুনডো একটি গভীর নীল রঙের আল্পাইন হ্রদ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা অনেকটাই বেড়েছে। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৪৪ জন পর্যটক আপার ডোলপায় পৌঁছেছেন। এর মধ্যে ১৪৯ জন নেপালি নাগরিক, ৪৪ জন সার্ক (SAARC) ভুক্ত দেশের দর্শনার্থী এবং ৫১ জন অন্যান্য বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বর্তমান খারাপ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে, জেলা প্রশাসন পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। পাওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, ২০২৫/২৬ আর্থিক বছরের প্রথম ১১ মাসে ৪,৮৮২ জন পর্যটক ফোকসুনডো হ্রদ দেখতে এসেছেন। যা এই অঞ্চলের প্রতি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকেই তুলে ধরে। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে এই অঞ্চলে ট্রেকিং করার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের লাগাতার সতর্কতার মাঝেই ৬ ভারতীয় নাগরিককে সফলভাবে উদ্ধার করা হল।