NASA Moon Base: চাঁদে মানুষের স্থায়ীভাবে থাকার সব ব্যবস্থা করে ফেলল নাসা, কবে থেকে কার্যকর

Published : May 28, 2026, 03:47 PM IST
NASA Moon Base

সংক্ষিপ্ত

NASA Moon Base: চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার পথে বড় পদক্ষেপ নিল নাসা (NASA)। আর্টেমিস কর্মসূচির অধীনে এবার চাঁদে আমেরিকার প্রথম স্থায়ী বেস তৈরির বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হল।পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপ চলবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত।

NASA Moon Base: চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার পথে বড় পদক্ষেপ নিল নাসা (NASA)। আর্টেমিস কর্মসূচির অধীনে এবার চাঁদে আমেরিকার প্রথম স্থায়ী বেস তৈরির বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। শুধু চাঁদে গিয়ে পতাকা পুঁতে ফিরে আসা নয়, এবার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি গড়ে তোলা। চাঁদে নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে তৈরি হবে এই ঘাঁটি। বিশেষ করে শ্যাকলটন ক্রেটারের আশপাশের এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ সেখানে দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো পাওয়া যায় এবং জলীয় বরফের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাও বেশি। ভবিষ্যতে সেই বরফ থেকেই অক্সিজেন, পানীয় জল এবং রকেট জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

চাঁদে ঘাঁটি গাড়ার কাজ কবে থেকে শুরু

পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপ চলবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। এই পর্যায়ে মূলত রোবট মিশন, পরীক্ষামূলক অবতরণ, গবেষণা এবং প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরির কাজ হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই ধাপে প্রায় ২৫টি উৎক্ষেপণ এবং ২১টি চন্দ্র অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৪ মেট্রিক টন সরঞ্জাম চাঁদে পাঠানো হবে। ২০২৬ সালেই 'মুন বেস ১', 'মুন বেস ২' এবং 'মুন বেস ৩' নামে তিনটি বড় মানবহীন মিশন পাঠানো হবে। এর মধ্যে প্রথম মিশনে ব্লু অরিজিনের ল্যান্ডার ব্যবহার করা হবে। ইতিমধ্যেই ব্লু ওরিজিন, অ্যাস্ট্রোল্যাব, লুনার আউটপোস্ট এবং ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস-এর মতো সংস্থাকে বহু কোটি ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়েছে।

চাঁদের মাটিতে চলাচলের জন্য বিশেষ রোভার ও বাগি পাঠানো হবে। পাশাপাশি 'মুনফল' প্রকল্পের অধীনে হপিং ড্রোনও ব্যবহার করা হবে, যা চাঁদের কঠিন ভূখণ্ড এবং সম্ভাব্য ঘাঁটির জায়গা খতিয়ে দেখবে। দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ২০২৯ সালের পর। এই পর্যায়ে আধা-স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তৈরি হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, আবাসন এবং সরঞ্জাম পরিবহণের নেটওয়ার্ক। জানা গিয়েছে, এই ধাপে প্রায় ৬০ হাজার কিলোগ্রাম সরঞ্জাম চাঁদে পৌঁছে দেওয়া হবে। সৌরশক্তির পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তিকেও ব্যবহার করা হবে ঘাঁটির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে।

চাঁদের গ্রাম তৈরিতে বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন ডলার

তৃতীয় ধাপে, অর্থাৎ ২০৩২ সালের পর থেকে, চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করার দিকে জোর দেওয়া হবে। এই সময় নিয়মিত মানুষ পাঠানো এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী বিশাল 'লুনার ভিলেজ' তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নাসার লক্ষ্য, ভবিষ্যতে প্রতি ছয় মাস অন্তর চাঁদে মানব মিশন পাঠানো। এই গোটা প্রকল্পে কয়েক বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আর্টেমিস মিশনের সাফল্যের উপর ভিত্তি করেই এই পরিকল্পনা এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদে এই স্থায়ী ঘাঁটি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

শুধু চাঁদে যাওয়া নয়, লক্ষ্য এখন চাঁদে থেকে যাওয়া

নাসার প্রশাসক জারেড ইসাকম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন, "এবার লক্ষ্য শুধু চাঁদে যাওয়া নয়, সেখানে থেকে যাওয়া।" আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের কথাও ভাবা হচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো কাঠামো হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এই পরিকল্পনাকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

US-Iran Conflict: আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে কে জিতল? মিডিয়া সার্ভেতেই সব পরিষ্কার!
Bilateral Trade Agreement: বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা বলতে জুনে ভারতে আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল