
আবারও ইরানের মিসাইল হামলার চেষ্টা রুখে দিল তুরস্ক এবং ন্যাটো। সোমবার তুরস্কের শাহিনবে জেলাকে নিশানা করে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়। কিন্তু ন্যাটো-র এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সেটিকে মাঝপথেই রুখে দেয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তুরস্কের দিকে মিসাইল হামলা হল। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ইরানকে এই ধরনের উস্কানিমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। তাদের কথায়, সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করে এমন কাজ এড়িয়ে চলা উচিত। ন্যাটো-র মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "ন্যাটো তার সব সহযোগী দেশকে যে কোনও বিপদ থেকে রক্ষা করতে দায়বদ্ধ।"
অন্যদিকে, তুরস্কের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে একথা জানিয়েছেন। ইরানের দাবি, তারা তুরস্কে কোনও হামলা চালায়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি 'যৌথ দল' বা 'জয়েন্ট টিম' তৈরি করতেও রাজি আছে বলে জানিয়েছে ইরান। প্রসঙ্গত, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত কয়েকদিনে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও ব্যাপকভাবে মিসাইল ও ড্রোন হামলা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিদেশনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খাররাজি ঘোষণা করেছেন, আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য ইরান প্রস্তুত। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে কূটনৈতিক আলোচনার কোনও গুরুত্ব নেই। যুদ্ধের দশম দিনে এসে ইরান নিজেদের অবস্থান আরও কড়া করেছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে।
তেহরানে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে খাররাজি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে সরে আসার জন্য চাপ দেওয়া। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে চরম আঘাত হানার মাধ্যমেই একমাত্র এই লড়াই শেষ হতে পারে। খাররাজি অভিযোগ করেন, আগের আলোচনাগুলোতে ট্রাম্প নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন এবং আলোচনার মধ্যেই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।