নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশের রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। তিনি ভারতের ভূখণ্ডে নেপালের দখলের কথা বলায় বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপালের সংসদ। সীমান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিরোধী দলগুলি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

উত্তাল নেপাল পার্লামেন্ট

রবিবার সংসদের অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। এর জেরে সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।

সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্রর মন্তব্য

গত ৩১ মে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সীমান্ত নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।, যেখানে তিনি বলেন যে নেপালও নাকি ভারতের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। বিরোধী দলগুলির মতে, এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুতর এবং দেশের স্বার্থবিরোধী। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে হয় ক্ষমা চাইতে হবে, নয়তো পদত্যাগ করতে হবে।

বালেন্দ্র বিরোধীতা

সিপিএন-ইউএমএল দলের সাংসদ গণেশ সিং থাগুন্না বলেন, “আমাদের দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান এই সার্বভৌম সংসদে যা বলেছেন, তা সকলেরই জানা। এটি অত্যন্ত আপত্তিকর একটি বিষয়। এই মন্তব্য জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে প্রভাবিত করবে। যদি এটা ভুল করে বলা হয়ে থাকে, তাহলে তা অবিলম্বে শুধরে নেওয়া উচিত। আর যদি তিনি জেনেশুনে বলে থাকেন, তাহলে এই বিষয়ে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত বলেই আমরা মনে করি।”

একইভাবে, রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (আরপিপি) সাংসদ খুশবু ওলি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য কূটনৈতিক, আইনি এবং জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রী কোনও ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর এই দুর্বল মন্তব্য দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিষয়টিকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক স্তরে এই মন্তব্যই পরে নেপালের দাবিকে দুর্বল করে দিতে পারে।”

বিরোধীদের একটানা বিক্ষোভের জেরে স্পিকার ডল প্রসাদ আরিয়াল আগামী ৮ জুন সকাল ১১টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতুবি করে দেন।

নেপালের জমি বিতর্ক

রবিবার সংসদে সাংসদদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দাবি করেন যে, নেপালের জমি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি নেপালও ভারতের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বিরোধীরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে এবং সরকারের কাছে এর প্রমাণ চায়।

পরে সন্ধ্যায়, নেপালের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়। মুখপাত্র লোক বাহাদুর পাউডেল ক্ষেত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আসলে ‘ক্রস-বর্ডার অকুপেশন’ বা সীমান্ত পেরিয়ে জমি ব্যবহারের একটি প্রযুক্তিগত ধারণার কথা বলতে চেয়েছেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, প্রযুক্তিগত সমীক্ষা অনুযায়ী এমন কিছু এলাকা রয়েছে যেখানে বর্তমানে নেপালের ব্যবহৃত জমি ভারতের দিকে পড়তে পারে, আবার ভারতের ব্যবহৃত জমিও নেপালের দিকে থাকতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, “এটি মূলত নো-ম্যানস ল্যান্ড দখল এবং সীমান্ত পেরিয়ে জমি ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।”

মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে, সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী নেপালের সরকারি সীমান্ত নির্ধারিত। তবে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং সুস্তার মতো এলাকাগুলির সীমানা নির্ধারণ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।