
নেপালে বিধ্বংসী হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ হয়েছে। রবিবার বিকেল ৩টে নাগাদ নেপাল পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে। আপডেট হওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চিতওয়ানে, ২৬৪ জন। এরপরেই রয়েছে নওয়ালপারাসি ইস্ট (১৯৪), নওয়ালপারাসি ওয়েস্ট (১২০), গোর্খা (৫৮), নুওয়াকোট (৫২), ধডিং (৫০), তানাহুন (৩৭) এবং রাসুয়া (১৩)।
এর আগে, নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানায়, দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৫০২ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। শনাক্তকরণের জন্য দেশজুড়ে ২১টি হাসপাতালে পরিচয়হীন দেহগুলি রাখা হয়েছে।
NDRRMA জানিয়েছে, মোট নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১২৭ জন নেপালি নাগরিক যারা বিদেশি দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন।
নিখোঁজদের তালিকায় নেপাল পুলিশ, নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, কাস্টমস অফিস এবং ইমিগ্রেশন অফিসের কর্মীরাও রয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ২৩৯ জন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বা চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়েছেন। দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ৬টি সার্জিক্যাল মেডিকেল টিম কাজ করছে।
প্রায় ২০,০০০ নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে। তারা এখনও পর্যন্ত ৮,৭৩০ জনকে উদ্ধার করেছেন। হেলিকপ্টারে ৩৬৩টি ফ্লাইট চালানো হয়েছে, যার মাধ্যমে ২ ৩৬ জন বিদেশি-সহ ৩,০৮১ জনকে এয়ারলিফট করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে একটি প্লাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
NDRRMA আরও জানিয়েছে, নেপাল সরকার জরুরি আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রাসুয়া ও নুওয়াকোটকে ১ কোটি নেপালি রুপি, ধডিংকে ৫০ লক্ষ নেপালি রুপি এবং ১৫টি স্থানীয় প্রশাসনকে মোট ৬.৭৫ কোটি নেপালি রুপি দেওয়া হয়েছে।
উত্তারগয়া এবং ধুনচের মতো বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলিতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে ৫০টি গাড়ি এবং ৮টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলির মাধ্যমে খাবার, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। আকাশ ও স্থলপথে উদ্ধারকাজ সচল রাখতে জ্বালানিও মজুত রাখা হচ্ছে।
কাঠমান্ডু থেকে বন্যা কবলিত এলাকাগুলিতে লাগাতার ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে, বন্যায় নিখোঁজদের পরিবার ও আত্মীয়রা ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিনের মর্গে ভিড় জমাচ্ছেন, যেখানে মৃতদেহগুলি আনা হচ্ছে। মর্গের বাইরে পরিজনদের ভিড়। নিখোঁজদের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন পরিজনরা।
ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের গভীরে আটকে থাকা কর্মীদের পরিবারের জন্য উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। উদ্ধারকারী দল সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শের বাহাদুর শাহী, যাঁর ছেলে টানেলে আটকে আছেন, বলেন, "উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আমার ছেলে নেই। ও ত্রিশূলী ৩এ প্রকল্পে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার... ওরা সবাই টানেলের ভেতরে আটকে আছে। আমরা ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। সরকারের উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে সঠিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি দিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করা... নেপাল সেনা টানেলের কাছে পৌঁছলেও, তাদের কাছে সঠিক সরঞ্জাম ও টেকনিশিয়ান ছিল না... ভারত হোক বা আমেরিকা, সবাই ভাই, সবাই প্রতিবেশী; উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য আমরা ভারত সরকারের কাছেও কৃতজ্ঞ।"
এর আগে শনিবার, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, রাসুয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া চারজন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপালে বিধ্বংসী বন্যার পর উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রিপু কুমার, চনেশ্বর নারজারি, কৃপা শঙ্কর এবং মহম্মদ মিনহাজউদ্দিন। তাঁদের কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা হচ্ছে।