
নেপালে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে একটি মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ভিডিও সামনে এসেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বন্যায় মৃত এক মহিলার দেহ থেকে কয়েকজন লোক সোনার কানের দুল চুরি করছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেপাল পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন নেপাল এই দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছে, যাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
৪১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, দুজন লোক কাঠের তক্তা ও চুল ধরে এক মহিলার দেহ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তাঁরা লাশের দুই কান থেকে সোনার কানের দুল খুলে একপাশে সরিয়ে রাখেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হল ঘটনাস্থলের কাছেই বহু লোক দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছিলেন এবং কেউ কেউ তাঁদের মোবাইল ফোনে তা রেকর্ডও করছিলেন। ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে মানুষ এর তীব্র নিন্দা জানায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করে। নেপাল পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে যে, মৃতদেহ থেকে কানের দুল চুরি করা ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ভিডিওটির একটি অংশও শেয়ার করেছে।
मृतकको कानको मुन्द्रा चोरी गर्ने व्यक्तिहरु नियन्त्रणमा लिएको सम्बन्धमा । pic.twitter.com/pnPlnQPn9j
— Nepal Police (@NepalPoliceHQ) August 27, 2026
ভিডিওর ভিত্তিতে পুলিশ ২৫ বছরের মদন গুরুং এবং ৩৮ বছরের উমেশ চৌধুরীকে শনাক্ত করেছ। নেপালি সংবাদমাধ্যম খবরহাব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভরতপুর মেট্রোপলিটন সিটি-১ এর পোখরা বাস পার্ক থেকে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই সঙ্কটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের লক্ষ্য করে লুটপাট বা যে কোনও ধরনের অমানবিক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখ্য যে, এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন নেপাল ও তিব্বতে বিধ্বংসী বন্যা তাণ্ডব চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন মারা গেছেন এবং দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১,৪৬৮ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এই বন্যায় বহু ভারতীয় নাগরিক-সহ শত শত মানুষ আটকে পড়েছেন। ভারত সরকার এখনও নিখোঁজ থাকা তাদের ২৯০ জন নাগরিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেতু ভেসে গেছে এবং সর্বত্র কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন একটি নতুন সৃষ্ট হ্রদের ওপরও নজর রাখছে, যা দ্রুত ভরে উঠছে এবং আরও ধ্বংসযজ্ঞের ঝুঁকি তৈরি করছে।