বাংলাদেশ ২.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২০টি চিনের থেকে জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। চুক্তি হলে এটাই হবে বিগত বছরগুলোর মধ্যে ঢাকার অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটা। জে-১০সিই হল চিনের জে-১০সি (J-10C) মডেলের রফতানি সংস্করণ। এটি সিঙ্গল ইঞ্জিন ও এক আসনের মাল্টিরোল (বহুমুখী কাজের উপযোগী) যুদ্ধবিমান।
বাংলাদেশ ২.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২০টি চিনের থেকে জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। চুক্তি হলে এটাই হবে বিগত বছরগুলোর মধ্যে ঢাকার অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একজন সহযোগী জানিয়েছেন যে গত বছরের মে মাসে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় জে-১০ যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা ও পারফরম্যান্সের বিষয়টি তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে।
তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজ অনুযায়ী প্রতিটি বিমানের কার্যকর মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার, যা বিমানটির ভিত্তি-মূল্য ৬২.৭ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, পরিচালন সংক্রান্ত সরঞ্জাম, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা, পরিবহন খরচ, বিমা, ভ্যাট এবং নির্মাণকাজ। বাংলাদেশের সংবাদপত্র 'দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ডলার প্রতি ১২৩ টাকা বিনিময় হার ধরে এই কেনাকাটার মোট খরচ ২৮,৩১৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে।
জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করেছিল ?
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৫ আগস্ট তিনি জানান যে, ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনার জন্য একটি কমিটি চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে। তবে 'অপারেশন সিন্দুর' এবং ফ্রান্স-নির্মিত রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানের প্রসঙ্গটিই বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। জাহিদ উর রহমান বলেন, "বাংলাদেশ জে-১০ কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কারণ, এটি এখন প্রমাণিত যে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় একটি চিনা-নির্মিত জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতের একটি রাফাল যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করেছিল। তিনি আরও বলেন, "রাফালকে একটি আধুনিক ৪.৫-প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে গণ্য করা হয়। এর বিপরীতে জে-১০সিই অত্যন্ত ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।"
পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, মে ২০২৫-এর সংঘাতের সময় তাদের চিনা-নির্মিত জে-১০ বিমানগুলো রাফাল-সহ ভারতের বেশ কয়েকটি বিমান ধ্বংস রেছিল। যদিও পাকিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দাসো এভিয়েশনের (Dassault Aviation) সিইও এরিক ট্রাপিয়ার তিনটি ভারতীয় রাফাল ধ্বংস হওয়ার দাবিকে ভুল বা অসত্য বলে অভিহিত করেছেন। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং জানান যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান এবং একটি বড় সামরিক বিমান ধ্বংস করেছিল।
বাংলাদেশ কেন চিনা জে-১০সিই (J-10CE) বিমান কিনতে চায়
জে-১০সিই হল চিনের জে-১০সি (J-10C) মডেলের রফতানি সংস্করণ। এটি সিঙ্গল ইঞ্জিন ও এক আসনের মাল্টিরোল (বহুমুখী কাজের উপযোগী) যুদ্ধবিমান। যা পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে পাকিস্তানই একমাত্র নিশ্চিত বিদেশি দেশ যারা এই বিমানটি কিনেছে। তাই চিনের যুদ্ধবিমান রফতানির উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই প্রস্তাবিত ক্রয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। ঢাকার জন্য এই ক্রয়প্রক্রিয়াটি তাদের পুরনো হয়ে যাওয়া বিমান বাহিনীকে আধুনিকীকরণ এবং আকাশসীমা সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি অংশ। বাংলাদেশের হাতে বর্তমানে এফ-৭ (F-7) যুদ্ধবিমান-সহ বিপুল সংখ্যক চিনা প্রযুক্তির বিমান রয়েছে। চিনই তাদের প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ।
ভারতের জন্য কী বার্তা?
ভারতের জন্য এই পদক্ষেপটির ব্যাপক আঞ্চলিক গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত ও গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান; তবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। জুন মাসে চিন সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। উপকূলীয় শহর দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘সামার দাভোস ফোরাম’-এ যোগ দেওয়ার পর তিনি দ্রুতগতির ট্রেনে করে বেজিংয়ে যান। তবে তাঁর ভারত সফরের বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত এবং এ বিষয়ে কোনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশে তাদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিন।


