
Nepal Rejects Foreign Aid: কাঁদছে নেপাল, তবু হার মানতে নারাজ। বিধ্বংসী বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। অথচ সেই চরম সঙ্কটের মুহূর্তেই বিশ্বমঞ্চের বাড়িয়ে দেওয়া সহায়তার হাত ফিরিয়ে দিল কাঠমান্ডু। উদ্ধারে নামতে দেওয়া হবে না বিদেশিদের, বিপর্যয় সামলাতে কড়া বার্তা নেপালের। ভারত, চিন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ব্রিটেনের মতো দেশগুলি উদ্ধারে নামতে তৈরি থাকলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, 'বিদেশী সেনা বা উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই।' বিপজ্জনক ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং ভয়াবহ ধসের কারণে বহু এলাকা এখনো বিচ্ছিন্ন। তা সত্ত্বেও নেপাল সরকারের স্পষ্ট বার্তা, তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই এই বিশাল উদ্ধারযজ্ঞ সামলাতে সক্ষম।
কাঠমান্ডুর প্রশাসন সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। সেই সময়ে বিশ্বজুড়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলের বন্যা বয়ে গেলেও পরবর্তীতে সমন্বয়ের চরম অভাব এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি আটকাতেই এবার স্পষ্ট 'না' বলে দিল বালেন শাহের সরকার।
দেখুন ভিডিও
'Head To Safety': Dam Breached In Tibet Amid Nepal Flood DevastationChina has also paused rescue operations, citing the high risk of renewed flooding in Tibet, where hundreds remain missing two days after a deadly mudslide.#nepal #NepalFlood #FlashFlood #Flood pic.twitter.com/tP4lDVqfW9
— know the Unknown (@imurpartha) August 28, 2026
তবে বিদেশি সাহায্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, বিষয়টি তেমনও নয়। উদ্ধারে না বললেও আন্তর্জাতিক আর্থিক এবং মানবিক সাহায্যকে স্বাগত জানাচ্ছে নেপাল। কাঠমান্ডুর স্পষ্ট অবস্থান, উদ্ধার পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজে আন্তর্জাতিক আর্থিক অনুদান গ্রহণ করা হবে।
নদী অববাহিকায় তাণ্ডব: গত বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ভোটেকোশি এবং ত্রিশূলি নদীর উপচে পড়া জলে ভাসল বিস্তীর্ণ এলাকা।
মৃত্যু ও উদ্ধার: শুক্রবার পর্যন্ত নেপাল পুলিশ অন্তত ৫০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ১,৫৪৫ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বহু নিখোঁজ: এখনও নিখোঁজ প্রায় ১,০০০ মানুষ। এমনকি উদ্ধারকাজে নেমে নিখোঁজ হয়েছেন নেপাল পুলিশের ২৮ জন সদস্য।
মহাতৎপরতায় বাহিনী: দেশের ৪,৩৪৮ জন পুলিশকর্মী দিনরাত এক করে কাজ করছেন। রসুয়া থেকে ৬৪৪, নুওয়াকোট থেকে ৮৯৮ এবং ধাদিং থেকে ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকাজ নিয়ে নেপালের এই কঠোর অবস্থানের কারণে স্বভাবতই আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে অন্যান্য দেশগুলির আকাশে। কারণ নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন প্রচুর সংখ্যক বিদেশী নাগরিক। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫১ জন মালয়েশিয়ান, ৫৩ জন ইউক্রেনীয় এবং বহু চীনা নাগরিক। বিশেষত ভারতীয়দের উদ্ধারে ভারত সরকার অত্যন্ত তৎপরতা দেখিয়ে ‘জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী’ (NDRF) পাঠানোর অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় নাগরিকদের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জেনেও কাঠমান্ডু তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে ভারতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপাতত নিজেদের বিদেশ মন্ত্রকে একটি 'ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম' বা জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে নেপাল। সেখান থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশী নাগরিকদের তথ্য ও কনস্যুলার সহায়তার তদারকি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমেরিকার ৫০০,০০০ ডলারের আর্থিক সাহায্য এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) জরুরি ওষুধপত্র গ্রহণের মাধ্যমে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে কাঠমান্ডু।