
Israel-Iran War: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার একটি বড় প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস আরব উপদ্বীপ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ইজরায়েলের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হোক। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হল হরমুজ প্রণালী এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য সমুদ্রপথে ইরানের তৈরি করা ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ করা। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি প্রেস কনফারেন্সে এই মডেলটি তুলে ধরেন। সম্প্রতি ইজরায়েল ইরানের গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে ইরানও কাতার এবং ইজরায়েলের গ্যাস পরিকাঠামোকে নিশানা করে। এর মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলকে ইরানের তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোর ওপর আর হামলা না করার জন্য বলেছেন।
প্রেস কনফারেন্সে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে তেহরান এখন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। যদিও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (IAEA) এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এটিকে পুরোপুরি সত্যি বলে মনে করছে না। নেতানিয়াহু বলেন, "এখন সময় এসেছে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বিকল্প খুঁজে বের করার।" তিনি ইঙ্গিত দেন যে এই পথগুলো যদি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তাহলে ইজরায়েল কৌশলগতভাবে লাভবান হতে পারে।
নেতানিয়াহুর প্রস্তাব অনুযায়ী, তেল ও গ্যাসের পাইপলাইন আরব উপদ্বীপ থেকে সরাসরি ইজরায়েল পর্যন্ত নিয়ে আসা হবে। এই পাইপলাইনগুলো স্থলপথ দিয়ে যাবে। শেষে এটি ইজরায়েলের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, এর ফলে সামুদ্রিক 'চোক পয়েন্ট' বা সংকীর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা শেষ হয়ে যাবে এবং এটি যুদ্ধের পর একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এই পরিকল্পনার শুরু হতে পারে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) বড় তেলক্ষেত্রগুলো থেকে। সম্ভাব্য রুটটি সৌদি আরব বা UAE থেকে শুরু হয়ে জর্ডন অথবা সৌদি মরুভূমির মধ্যে দিয়ে ইজরায়েলে ঢুকবে এবং তারপর হাইফা বা আশদোদ বন্দরে পৌঁছাবে। এরপর এই নেটওয়ার্ক ভূমধ্যসাগরের মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত হবে।
এই পরিকল্পনা সফল হলে রাশিয়া এবং সুয়েজ খালের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমবে। তেল ও গ্যাসের সরবরাহ আরও সুরক্ষিত এবং দ্রুত হবে।
এই প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে ইজরায়েল বিশ্বজুড়ে শক্তি সরবরাহের একটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তবে, এর ফলে একটি নতুন আশঙ্কাও তৈরি হবে। যেমন এখন ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা সাপ্লাই চেনে বাধা দেয়, তেমনই ভবিষ্যতে ইজরায়েলের হাতেও পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা চলে আসবে।