Child Marriage In Pakistan: পাকিস্তানে বাল্যবিবাহ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে সরব এইচআরএফপি

Published : Sep 29, 2026, 11:12 AM IST
Indore child marriage case

সংক্ষিপ্ত

জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পাকিস্তানের বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন এইচআরএফপি সভাপতি নাভিদ ওয়াল্টার। বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর করা হলেও, ধর্মীয় দলগুলোর বিরোধিতায় আইন কার্যকর করা কঠিন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সোমবার এইচআরএফপি-র (হিউম্যান রাইটস ফোকাস পাকিস্তান) একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে পাকিস্তানের বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সভাপতি নাভিদ ওয়াল্টার। বাল্যবিবাহ রোধে তৈরি আইনগুলো আরও কড়াভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আইনি জটিলতা ও ধোঁয়াশা

প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, নিজের বক্তব্যে ওয়াল্টার জানান, সম্প্রতি ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি 'পাঞ্জাব চাইল্ড ম্যারেজ রেস্ট্রেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬'-এর কথাও তুলে ধরেন তিনি। ওয়াল্টার বলেন, "আইনকানুনে পাকিস্তান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল এনেছে। কিন্তু এখন সেই আইনগুলোরই পরীক্ষা চলছে। কারণ, কোরান ও সুন্নাহর পরিপন্থী দাবি করে ধর্মীয় দলগুলো এই আইনের বিরোধিতা করছে। এখন দেখার বিষয়, এই আইনগুলো ঠিকমতো কার্যকর হয় কি না এবং আদালত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষা দিতে পারে কি না।"

১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি ধোঁয়াশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওয়াল্টার। অনেক সময় বাল্যবিবাহ রোধের আইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় আইনের সংঘাত দেখা যায়। তিনি জানান, সম্প্রতি মেয়েদের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালতগুলো ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি নথিপত্র ও নাডরা (NADRA) রেকর্ডের বড় ভূমিকা রয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিচারকরা শরিয়ত ও প্রাচীন ইসলামি আইন অনুযায়ী 'বয়ঃসন্ধি'-র ওপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সংখ্যালঘুদের দুর্দশা ও সমস্যার ব্যাপকতা

"যে ঘটনার কোনও নথি নেই, তার বিচারও হয় না।" ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ও বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা নিয়েও সরব হন ওয়াল্টার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি অভিযোগের সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। শিশুর নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার রক্ষাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

এইচআরএফপি-র প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, ইউনিসেফ জানিয়েছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বাল্যবধূর বাস পাকিস্তানে। সেখানে লাখ লাখ মেয়ের ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। ওয়াল্টার বলেন, সংবাদমাধ্যম বা আদালতে যতগুলো মামলা সামনে আসে, আসল সংখ্যাটা তার চেয়ে অনেক বেশি। তাঁর কথায়, "আইন তো ছিলই, শুধু সেগুলোকে পাত্তা দেওয়া হয়নি। এখন আসল চ্যালেঞ্জ হলো আইন কার্যকর করা।"

পদক্ষেপের সুপারিশ

বিচার প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের বাল্যবিবাহ আইন আরও কড়াভাবে প্রয়োগ করার দাবি জানান ওয়াল্টার। তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ করেন, বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের আগে সিএনআইসি (CNIC), বি-ফর্ম ও নাডরা (NADRA) রেকর্ডের মাধ্যমে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে। এছাড়া অভিযোগ, এফআইআর, বিচার ও সাজার পরিসংখ্যান প্রতি বছর প্রকাশ করার কথাও বলেন তিনি। জোরপূর্বক বিয়ের শিকার হওয়া শিশুরা যাতে আইনি সাহায্য পায়, তার জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য আনার দাবিও জানান তিনি।

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ও সদস্য দেশগুলোকে পাকিস্তানের মানবাধিকার পর্যালোচনার সময় এই বিষয়গুলো তুলে ধরার অনুরোধ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তাঁর আবেদন, তারা যেন পাকিস্তানকে একটা নির্দিষ্ট প্রশ্ন করে: "আদালতে 'বয়ঃসন্ধি' আর 'আঠারো বছর'-এর এই সংঘাত আপনারা কীভাবে মেটাবেন?"

জিএসপি প্লাস (GSP+)-এর মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বাণিজ্য সংক্রান্ত পর্যালোচনা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধের আইনগুলোর ওপর কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছে এইচআরএফপি। কতগুলো বিয়ে আটকানো গেল, কতগুলো মামলা হলো এবং কতজন সাজা পেল— এই বিষয়গুলো নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

রক্ষাকর্তার ডাক

বক্তব্যের শেষে ওয়াল্টার বলেন, "পাকিস্তানের লিখিত আইনগুলোকে এখন আদালত, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং এই ধরনের ফোরামে রক্ষা করা দরকার।" শিশু ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় এইচআরএফপি কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, "হিউম্যান রাইটস ফোকাস পাকিস্তান তথ্য সংগ্রহ চালিয়ে যাবে। আর আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা প্রশ্ন করা চালিয়ে যান।"

এইচআরএফপি-র প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে, গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স (GHRD)-এর একটি সাইড ইভেন্টে স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার আই কিহারা-হান্ট, ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য হাইনা লু, রাষ্ট্রসংঘের টিম কোঅর্ডিনেটর আলেজান্দ্রা মার্টিনেজ সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ধ্বংসযজ্ঞ ফিরল নেপালে, তাসের ঘরের মত ভাঙছে বাড়ি, বাড়ছে মৃত্য়ু মিছিল
Stock Market Crash: ট্রাম্পের না, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ধস শেয়ার বাজারে, সেনসেক্স ৬ মাসের সর্বনিম্নে