
Iran Israel War: মধ্যপ্রাচ্যে যখন ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তখন এমন একটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে যা বিশ্বের তাবড় তাবড় রাজনীতিকদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের একটি গোপন রিপোর্টের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান নিঃশব্দে সৌদি আরবের মরুভূমিতে তাদের ৮,০০০ মারাত্মক সেনা মোতায়েন করেছে। শুধু সেনাই নয়, ইসলামাবাদ তাদের সবচেয়ে আধুনিক ১৬টি JF-17 থান্ডার ফাইটার জেট, একটি সম্পূর্ণ ড্রোন স্কোয়াড্রন এবং চিনে তৈরি ভয়ঙ্কর HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও সৌদি আরবের ময়দানে নামিয়েছে। যদিও দুই দেশের সরকারই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুপ করে আছে, তবে সূত্র মারফৎ জানা গেছে যে এই বিশাল সামরিক মোতায়েনের জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করছে সৌদি সরকার। প্রয়োজনে পাকিস্তান আরও সেনা পাঠাতে প্রস্তুত।
এদিকে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে ফেরার আর কোনও পথ নেই। ইরান সরাসরি হোয়াইট হাউসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) নৌ অবরোধ অবিলম্বে তুলে নিতে হবে। তেহরান অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ভাষায় হুমকি দিয়েছে যে, আমেরিকা যদি পিছু না হটে, তাহলে 'ওমান সাগর'কে মার্কিন নৌবাহিনীর কবরস্থানে পরিণত করা হবে। এই হুমকিকে বাস্তবায়িত করতে ইরান 'পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি' (PGSA) নামে একটি নতুন এবং কঠোর সামুদ্রিক সংস্থা তৈরি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জারি করা নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, এখন থেকে হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের সেনার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে, নাহলে সেটিকে 'অবৈধ' বলে উড়িয়ে দেওয়া হবে।
এই উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) থেকে আসা একটি হাড়হিম করা খবর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো UAE-এর 'বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে' (Barakah Nuclear Power Plant) একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলা হয়েছে, যার পরে প্ল্যান্টের বাইরের অংশে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। এই হামলার দায় সরাসরি ইরানের দিকেই যাচ্ছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ভারতের জন্য একটি স্বস্তি এবং একটি উদ্বেগের খবর একসঙ্গে এসেছে। ভারতের ১৫টি এলপিজি (LPG) গ্যাসের জাহাজ কোনওক্রমে এই মৃত্যুপুরী (হরমুজ) পার করে কান্ডলা বন্দরে পৌঁছেছে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখে রাষ্ট্রপুঞ্জে (UN) ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বতানেনি হরিশ কড়া ভাষায় বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ভারত হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজের পথ আটকানো কোনওভাবেই মেনে নেবে না।
এই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে চলেছে বিশ্বের অর্থনীতির উপর। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (IEA) প্রধান ফাতিহ বিরোল এক ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের অনেক দেশ তাদের জরুরি ভান্ডার থেকে প্রতিদিন ২৫ লক্ষ ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে। এর ফলে এখন বিশ্বের কাছে মাত্র কয়েক সপ্তাহের 'অয়েল রিজার্ভ' বাকি আছে। অন্যদিকে, ইরানের গড়িমসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে, নাহলে গুরুতর পরিণতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। এদিকে, যুদ্ধবিরতির দাবি উড়িয়ে দিয়ে ইজরায়েল লেবাননে ৩০টিরও বেশি নতুন বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে সেখানে মৃতের সংখ্যা ৩,০২০ ছাড়িয়ে গেছে। এই মুহূর্তে সমুদ্রে ১,৫০০-র বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকে পড়েছেন, যাদের উপর যে কোনও মুহূর্তে ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।