Peace Talks: আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকের আগে পাকিস্তানে ইরানের স্পিকার! মধ্যস্থতাকারী ইসলামাবাদ

Published : Apr 11, 2026, 08:33 PM IST
Peace Talks: আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকের আগে পাকিস্তানে ইরানের স্পিকার! মধ্যস্থতাকারী ইসলামাবাদ

সংক্ষিপ্ত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনার আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে ইরানের স্পিকার গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান, যার মূল লক্ষ্য ভঙ্গুর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিকে স্থিতিশীল করা।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজ "ইসলামাবাদ টকস"-এর অংশ হিসেবে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এই আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শরিফ বলেন, "আঞ্চলিক ও বিশ্ব শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার ভূমিকা পালন করে যাবে।" এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষা প্রধান আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত কূটনৈতিক আলোচনার আগে, ইরানি প্রতিনিধিদল বর্তমানে পাকিস্তানের রাজধানীতে একটি কৌশলগত বৈঠক করছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এই শনিবার যে শান্তি আলোচনা শুরু হতে চলেছে, তার আগে নিজেদের অ্যাজেন্ডা চূড়ান্ত করে নিচ্ছে তারা। এই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইসলামাবাদ।

'হয় এসপার, নয় ওসপার' আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদল হাজির

এর আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন। আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, সেরেনা হোটেলে চলা এই ব্যাপক কূটনৈতিক কার্যকলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ওই বৈঠক। বিলাসবহুল হোটেলের বাইরে কড়া নিরাপত্তা এবং ব্যস্ততা দেখা গেছে, যেখানে ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধিদলকে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী শরিফ এই আলোচনাকে "হয় এসপার, নয় ওসপার" বলে উল্লেখ করেছেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আয়োজিত এই বৈঠকের লক্ষ্য হল একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থিতিশীল করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছিল। মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, শনিবার সকালে ইরানি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উদ্দেশে রওনা দেয়।

এই আলোচনার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, আলোচনার ফলাফল সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার মনোভাবের উপর নির্ভর করছে। তাঁর কথায়, যদি ইরানি প্রতিনিধিরা "আমেরিকা ফার্স্ট" (যারা আমেরিকার স্বার্থকে আগে রাখে) নীতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেন, তবে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু যদি তারা "ইজরায়েল ফার্স্ট" (যারা ইজরায়েলের স্বার্থকে আগে রাখে) নীতির প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হন, তবে কোনও চুক্তি হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সেক্ষেত্রে আমরা আমাদের প্রতিরোধ আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যাব এবং বিশ্বকে আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে।"

গোটা বিশ্ব যখন এই "ঝুঁকিপূর্ণ" যুদ্ধবিরতি আলোচনার দিকে তাকিয়ে, তখন মার্কিন দল দিনের শুরুতেই ইসলামাবাদে পৌঁছয়। অন্যদিকে, স্পিকার গালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি দল মাঝরাতের পর নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে এসে পৌঁছয়। আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর সেটিকে ঘিরে ছিল AWACS আর্লি ওয়ার্নিং এয়ারক্রাফ্ট এবং ফাইটার জেট।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মতে, এই আলোচনার জন্য মাত্র ১৫ দিনের সময়সীমা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল তাকিয়ে রয়েছে ইসলামাবাদের দিকে। আগামী ৪৮ ঘণ্টাই বলে দেবে এই আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি কি দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছবে, নাকি আবার সংঘাতের পথে ফিরবে। (ANI)

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Today’s News in Bengali Live: Cristiano Ronaldo - 'আমার আগে তো পর্তুগাল কিছুই জেতেনি,' ইউরো জয়কে বিশ্বকাপের সমান বলছেন রোনাল্ডো
China Law: চিনের নতুন আইন, সারা বিশ্বে সমালোচকদের টার্গেট করার ছক? তাইওয়ানের হুঁশিয়ারি