
ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর রবিবার প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন পোপ লিও চতুর্দশ। ভ্যাটিকানের অ্যাপোস্টোলিক প্যালেসের জানালা থেকে সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে জড়ো হওয়া ভক্তদের উদ্দেশে তিনি কথা বলেন। তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে, ধীরে ধীরে তিনি নিজের সব দায়িত্ব আবার শুরু করবেন।
৭১ বছর বয়সী পোপ কারও সাহায্য ছাড়াই জানালার কাছে আসেন। মেঘলা আকাশের নিচে জড়ো হওয়া পুণ্যার্থীদের দেখে তিনি হাসেন এবং বেশ স্পষ্ট ও জোরালো গলায় তাঁর রবিবারের দুপুরের চিরাচরিত ভাষণ দেন। সারা বিশ্বের মানুষের প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। পোপ লিও বলেন, সুস্থ হয়ে ওঠার একটা কঠিন পর্যায় তিনি সফলভাবে পার করেছেন। ঈশ্বরের সাহায্য আর সবার প্রার্থনায় তিনি ধীরে ধীরে নিজের কাজ আবার শুরু করবেন।
পোপ বলেন, "গত কয়েক দিন ধরে যাঁরা আমার জন্য প্রার্থনা করেছেন, তাঁদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি সত্যিই আপনাদের সমর্থন অনুভব করেছি। ধন্যবাদ! জেমেলি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং সব কর্মীকে আমি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে সেই সব মানুষের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে, যাঁরা অসুস্থতা বা দুর্বলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা জানেন, আমি এই কঠিন পর্যায়টা পার করে এসেছি। এখন ঈশ্বরের সাহায্য আর আপনাদের প্রার্থনায় আমি ধীরে ধীরে আমার কাজগুলো আবার শুরু করব।"
পুণ্যার্থীদের তিনি স্বার্থপরতা ছেড়ে নিঃস্বার্থভাবে ঈশ্বরের সেবা করার আহ্বান জানান। গত মঙ্গলবার তাঁর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ (লোয়ার লোব) কেটে বাদ দেওয়া হয়। সেই অস্ত্রোপচারের পর এটাই ছিল পোপ লিওর প্রথম প্রকাশ্যে আসা।
৭১ বছর বয়সী পোপের ১৭ মাসের কার্যকালে এই অস্ত্রোপচার হয়। এর ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছিল। প্রায় ১৪০ কোটি অনুসারী থাকা রোমান ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু হিসেবে তিনি তাঁর দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় ছিলেন।
অস্ত্রোপচারের চার দিন পর, শনিবার রোমের জেমেলি হাসপাতাল থেকে পোপকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে স্বাগত জানাতে সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে ক্যাথলিক ভক্তরা ভিড় করেন। হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় পোপ এক সাংবাদিককে ইংরেজিতে জানান যে, তিনি এখন অনেকটাই ভালো বোধ করছেন। এর থেকেই বোঝা যায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।
অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, পোপ লিও অ্যাডেনোকার্সিনোমায় আক্রান্ত। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ রূপ। টিউমার এবং এর সঙ্গে যুক্ত লিম্ফ নোডগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এই পরীক্ষার রিপোর্ট এলে চিকিৎসকরা বুঝতে পারবেন যে তাঁর আরও কোনো চিকিৎসার দরকার আছে কি না।
পোপ লিওর পরবর্তী বড় কর্মসূচি হলো একটি আন্তর্জাতিক সফর। আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর তাঁর উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং পেরু যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর সার্জন ডা. স্টেফানো মার্গারিটোরা শনিবার ভ্যাটিকান নিউজকে জানিয়েছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকে এই সফর বাতিল করার কোনো কারণ নেই।
ডা. মার্গারিটোরা আরও বলেন, পোপ নিজের সুস্থতার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তিনি অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। পোপ লিও তাঁর কাজ আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাঁর আর কোনো চিকিৎসার দরকার আছে কি না, তা চলমান পরীক্ষার রিপোর্ট থেকেই জানা যাবে।