President Trump: দেশের সবাইকে ৫ লক্ষ টাকা দেবেন ট্রাম্প, কিন্তু অর্থ আসবে কোথা থেকে! প্রশ্ন বিরোধীদের

Published : Sep 10, 2026, 02:13 PM ISTUpdated : Sep 10, 2026, 02:24 PM IST
iran war pickaxe mountain trump threat iran nuclear site attack

সংক্ষিপ্ত

President Trump: ইরান যুদ্ধে নাজেহাল অবস্থা, দাবি করেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে না পারা, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যুতে দেশবাসীর একটা বড় অংশের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। Trump 5000 Dollar Dividend

Trump 5000 Dollar Dividend: ইরান যুদ্ধে নাজেহাল অবস্থা, দাবি করেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে না পারা, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যুতে দেশবাসীর একটা বড় অংশের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এদিকে, চলতি বছরের নভেম্বরের গোড়ায় আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিড টার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনে হেরে গেলে বড় বিপদে পড়তে পারেন, এমনকী গদিও হারাতে পারেন ট্রাম্প। এমন চাপের মুখে দাঁড়িয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট বৈতরণী পাড় হতে দেশবাসীকে একেবারে নগদ ডলারের টোপ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

৫ লক্ষ ডলার দেশের সব সাবালক ব্যক্তিদের দেবেন ট্রাম্প

আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে, প্রতিনিধি পরিষদ (House) এবং সেনেটে (Senate) সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি সাবালক নাগরিককে দেওয়া হবে ৫,০০০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৫ লক্ষ টাকারও মত)! রিপাবলিকান পার্টির ঐতিহাসিক প্রথম মিডটার্ম কনভেনশনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প এই নজিরবিহীন অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেন। যাকে তিনি নিজেই নাম দিয়েছেন, 'ট্রাম্প ডিভিডেন্ড' (Trump Dividend)।

দেখুন কী বললেন ট্রাম্প

ঠিক কী বললেন ট্রাম্প

টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত দলীয় কনভেনশনে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটিকে লভ্যাংশ বণ্টনের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, "একটি লাভজনক কোম্পানি যেভাবে বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের নগদ ক্যাশ বা ডিভিডেন্ড দেয়, ঠিক সে ভাবেই দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের ভাগ পাবে সাধারণ মানুষ।" ট্রাম্পের দাবি, দেশ যে 'বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্য' অর্জন করছে, সেখান থেকেই উঠে আসবে এই বিপুল অর্থ। এ ছাড়া বিদেশি পণ্যের উপর চাপানো কড়া ট্যারিফ বা শুল্ক থেকেও এই তহবিলের একটা বড় অংশ সংস্থান করা হবে।

শর্ত থাকছে যেটা

তবে ট্রাম্প এই উপহারের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন একটি কড়া শর্ত, এই অর্থ কেবল দেশের অভ্যন্তরেই খরচ করতে হবে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ''এই টাকা কিন্তু চিন, কানাডা, জার্মানি কিংবা অন্য কোনও বিদেশি রাষ্ট্রে গিয়ে ওড়ানো যাবে না। মার্কিন অর্থনীতিতেই এর সুফল মিলতে হবে।'' পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে আমেরিকায় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২৪ থেকে ২৭ কোটি। ফলে প্রতি নাগরিককে ৫,০০০ ডলার দিতে গেলে সরকারের পকেটে টান পড়বে কম করে ১ থেকে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার! বিশাল এই ব্যয়ের উৎস কী হবে, কিংবা কীভাবে এই বিতরণ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে,তার স্পষ্ট কোনও রূপরেখা বা প্রশাসনিক ব্যাখ্যা ট্রাম্পের ভাষণে মেলেনি।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আগামী ২০২৬-এর মিডটার্ম নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে। রিপাবলিকানদের জন্য ভোটের লড়াইও বেশ কঠিন হতে চলেছে। ঠিক এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে ভোটারদের মন জয় করতেই কি ট্রাম্পের এই 'টাকার টোপ'? যদিও জনসভায় সমর্থকদের চাঙ্গা করতে ট্রাম্প বলেন,"আপনারা ধরে নিন ব্যালট পেপারে আমিই আছি। ভোটটা আমাকেই দিন। রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারা জিতবেন, এক সঙ্গে ৫,০০০ ডলার পাবেন!" এমনকি নিজের গোটা ভাষণের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতিকেই 'সেরা অংশ' বলে আখ্যা দেন তিনি।

বিরোধী শিবির কী বলছে

অবশ্য ক্যাশ-পেমেন্টের টোপ ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। এর আগে সেনা সদস্যদের জন্য ১,৭৭৬ ডলারের ‘ওয়ারিয়র ডিভিডেন্ড’ কিংবা ট্যারিফ থেকে ২,০০০ ডলারের চেকের কথা তিনি বলেছিলেন। এমনকি ইলন মাস্কের প্রস্তাবিত ৫,০০০ ডলারের ‘ডগ ডিভিডেন্ড’ (DOGE Dividend)-এর কথাও স্মরণ করা যায়, যার বাস্তবায়নে শেষ পর্যন্ত জল ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যাশিত ভাবেই ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এটি নেহাতই একটি “ফাঁকা প্রতিশ্রুতি” এবং রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার পরিচয়। বিরোধীদের যুক্তি, আমেরিকার ঘাটতি ও জাতীয় ঋণ যেখানে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে, সেখানে কোভিড-কালের আর্থিক প্রণোদনাকেও ছাপিয়ে যাওয়া এই বিশাল অঙ্কের অনুদান কীভাবে সম্ভব?

সবার নজর নভেম্বরে

সব মিলিয়ে, আমেরিকার ভোট রাজনীতির অলিন্দে এখন ট্রাম্পের এই ‘৫,০০০ ডলারের ট্রাম্প কার্ড’ নিয়েই চলছে জোর চর্চা। শেষ পর্যন্ত এটি স্রেফ ভোটের হাওয়া ঘোরানোর রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি সত্যি আমেরিকানদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়ে পৌঁছাবে, সে উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী ৩ নভেম্বরের ব্যালট বাক্সেই।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Worlds Hottest Month August: পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে গরম আগস্ট! ২০২৬-এ ভাঙল উষ্ণতার সব রেকর্ড
Naval Partnership: ভারত-অস্ট্রেলিয়া নৌসেনার সম্পর্ক আরও মজবুত, সিডনিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক