ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঘটনা। বিমানের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কো-পাইলটের সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কো-পাইলট ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আঘাত করেন। এরপর নিজের জীবন বিপন্ন হলেও বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাল্টা লড়াই করেন ক্যাপ্টেন।

ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঘটনা। বিমানের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কো-পাইলটের সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কো-পাইলট ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আঘাত করেন। এরপর নিজের জীবন বিপন্ন হলেও বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাল্টা লড়াই করেন ক্যাপ্টেন। তাঁর তৎপরতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদনে পাইলটকে "ভারতীয় বংশোদ্ভূত" হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ‘ওয়াইনেট নিউজ’ তাকে "ভারতীয় নাগরিক" হিসেবে শনাক্ত করেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। তিনি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলায় বিমানটি ভেঙে পড়া এবং মূলত ইজরায়েলি নাগরিক-সহ ১৮০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। বিমানে ১৮০-রও বেশি যাত্রী ছিলেন, যাঁদের বেশিরভাগই ইজরায়েলের নাগরিক। আচমকাই ককপিটের ভিতরে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সেই সময় বিমানটির উচ্চতাও দ্রুত কমতে শুরু করে। ফলে বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাইজ্যাকের সংকেত পাঠানো হয়

ঘটনার মধ্যে বিমান থেকে প্রথমে ‘7700’ জরুরি সংকেত এবং পরে ‘7500’ সংকেত পাঠানো হয়। ‘7500’ সংকেত সাধারণত বিমান ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের পরিস্থিতি বোঝায়। ফলে ইজরায়েলসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সতর্কতা তৈরি হয়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। আচমকা সেটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা কমে যায় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে।

যাত্রীদের মধ্যেই ছিলেন দুই অফ-ডিউটি পাইলট

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয়, বিমানের যাত্রীদের মধ্যেই দুই জন অফ-ডিউটি পাইলট ছিলেন। তাঁরাও পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটি তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনায় ক্যাপ্টেন এবং কো-পাইলট দু’জনেই আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিমানে থাকা যাত্রীদের কেউ আহত হননি।

যে ওমানি কো-পাইলট বিমানটিকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাকে ইজরায়েলে যাওয়ার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল—তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ বা সেখানে অবতরণের অনুমতি পাওয়ার আগে সব বিদেশি ক্রু সদস্যকে—বিশেষ করে আরব বা উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকদের—কঠোর নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

তদন্তকারীরা এটিও খতিয়ে দেখছেন যে ওই ওমানি কো-পাইলটের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল কি না, যার সুবাদে তিনি ইজরায়েলগামী ফ্লাইটে ওঠার সুযোগ পেয়ে থাকতে পারেন। ‘চ্যানেল ১২’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিনি এক বছরেরও কম সময় ধরে ওই এয়ারলাইন্সে কর্মরত ছিলেন।

সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কা

প্রথমে ঘটনাটিকে হাইজ্যাকের চেষ্টা বলে মনে করা হলেও পরে ইজরায়েলি আধিকারিকরা জানান, বিষয়টি সাধারণ হাইজ্যাকিংয়ের মতো নয়। পাইলটদের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষের পরই জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। একই সঙ্গে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলছে।