
Russia An-26 Military Plane Crash in Crimea: ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে আচমকা ভেঙে পড়ল রাশিয়ার একটি আন্তোনভ An-26 সামরিক পরিবহন বিমান। এই দুর্ঘটনায় ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ছিলেন ২৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু সদস্য। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে বুধবার ভোরে এই খবর জানানো হয়েছে। বিমানটি ৩১ মার্চ মস্কোর সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ উড়ান শুরু করেছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মন্ত্রক জানিয়েছে, বিমানটি একটি নির্দিষ্ট রুটেই উড়ছিল, কিন্তু হঠাৎই দুর্ঘটনা ঘটে।
এই দুর্ঘটনার আসল কারণ কী, তা এখনও কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে জানাননি। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানের ধ্বংসাবশেষে বাইরে থেকে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এর থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে, কোনও প্রযুক্তিগত গোলযোগ বা সিস্টেম ফেল করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এই দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার তেল ও পরিকাঠামোকে নিশানা করে ড্রোন হামলা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সব হামলায় রাশিয়ার বড় বড় তেলের বন্দর এবং পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের আসল উদ্দেশ্য হল রাশিয়ার তেলের আয় এবং সামরিক ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে প্রায় ৪০% বাধা পড়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়েছে এবং তাদের এশীয় বাজারের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই সেভাস্তোপোলে বিমান হামলার অ্যালার্ম বেজেছিল। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিমান ভেঙে পড়ার সরাসরি কোনও যোগসূত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়ায় An-26 এবং অন্যান্য আন্তোনভ মডেলের বিমান বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে। জুলাই ২০২৫-এ আমুর অঞ্চলে একটি An-24 বিমান দুর্ঘটনায় ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২১ সালেও An-26 বিমানের দুটি আলাদা দুর্ঘটনায় মোট ৩৪ জনের প্রাণ গিয়েছিল।
এই সব ঘটনার পর রাশিয়া দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন ও মিসাইল হামলার জবাবে সেনাও পাল্টা আক্রমণ বাড়িয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে এবং খুব তাড়াতাড়ি আসল তথ্য সামনে আসবে।