
সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ৫৩ মিনিটের দিকে জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুলে উঠল বহুতল আবাসন। কেঁপে উঠল মাটি। জোরালো ভূমিকম্পের পরেই তড়িঘড়ি সুনামির সতর্কতা জারি করা হল জাপানে। এদিন জাপানের উত্তর-পূর্বে তোহোকু এলাকায় জোরালো কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। এখনও পর্যন্ত হতাহতের ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তড়িঘড়ি সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নদী ও উপকূলীয় এলাকা বাসিন্দাদের তড়িঘড়ি সরে গিয়ে দ্রুত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুনামি সতর্কতা যতক্ষণ জারি রয়েছে, ততক্ষণ নিরাপদ আশ্রয় থেকে কাউকে সরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে টোকিওতেও কম্পন অনুভূত হয়। এদিন ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সানরিকু উপকূলের কাছে। ভূমিকম্পের জেরে উপকূলে প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। বিশেষত ইওয়াতে ও হোক্কাইডো অঞ্চলে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
গত ৩১ ডিসেম্বর, বুধবার জাপানের নোদা শহরে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ইউএসজিএস জানিয়েছে যে ভূমিকম্পটি নোদা থেকে প্রায় ৯১ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে এবং ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ১৯.৩ কিলোমিটার। যদিও কম্পনের কারণে কোনও ক্ষয়ক্ষতির হিসেব সামনে আসেনি।
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ, কারণ এটি প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অফ ফায়ার' (Ring of Fire) অঞ্চলে, ৪টি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের (প্যাসিফিক, ফিলিপাইন, ইউরেশীয়, এবং উত্তর আমেরিকান) সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই প্লেটগুলোর ক্রমাগত সংঘর্ষ, সঞ্চালন এবং একটির নিচে অন্যটির ঢুকে পড়ার কারণে (subduction) সেখানে ঘন ঘন ও শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং সুনামি হয়
জাপানে ঘন ঘন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ
টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থল: জাপান চারটি টেকটোনিক প্লেটের সীমান্তে অবস্থিত, যা বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম।
রিং অফ ফায়ার: জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অফ ফায়ার-এ অবস্থিত, যেখানে প্রায় ৪৫২টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
সাবডাকশন জোন (Subduction Zone): মহাসাগরীয় প্লেটগুলো (যেমন- প্যাসিফিক প্লেট) মহাদেশীয় প্লেটের নিচে তলিয়ে যাওয়ার সময় প্রচন্ড শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে, যা বড় ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
ফল্ট লাইন: জাপানের ভৌগোলিক গঠনের কারণে সেখানে অসংখ্য ফল্ট লাইন রয়েছে, যা ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ায়।
মূলত, এই ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণেই জাপানে বছরে হাজার হাজার ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।