
সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে আসতে পারেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে 'এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬'-এ যোগ দিতে নয়াদিল্লি এসেছিলেন পারমেলিন। সেই সম্মেলনের ফাঁকেই ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিলেন তিনি। ওই বৈঠকে দুই নেতা ভারত ও সুইজারল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান।
পারমেলিন তখন জানিয়েছিলেন, 'ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬'-এর ফলাফল আগামী দিনের বিশ্ব সম্মেলনের রূপরেখা তৈরিতে বড় ভূমিকা নেবে। ২০২৭ সালে সুইজারল্যান্ডে ওই সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত হওয়ায় দুই নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেন। 'ইন্ডিয়া-ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন' (EFTA) এবং 'ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট' (TEPA) কার্যকর হওয়ার ফলে যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। সুইজারল্যান্ড এই চুক্তির অন্যতম প্রধান সদস্য।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ওই সফরই ছিল পারমেলিনের শেষ ভারত সফর। মনে করা হচ্ছে, আগামী সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্রগুলোতে জোর দেওয়া হবে। এর আগে ১৬ জুন জেনেভাতেও পারমেলিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ফ্রান্সে জি-৭ (G7) সামিটে যোগ দিতে এভিয়ান যাওয়ার পথে তাঁদের এই সাক্ষাৎ হয়।
স্বাধীনতার পর থেকেই সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। দুই দেশের এই সম্পর্কের মূলে রয়েছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসনের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
ভারতের জোটনিরপেক্ষ নীতি এবং সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান দুই দেশের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি করেছে। ১৯৪৮ সালের ১৪ অগস্ট নয়াদিল্লিতে 'ট্রিটি অফ ফ্রেন্ডশিপ' বা বন্ধুত্ব চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম প্রথম চুক্তি।