
তাইওয়ানের চারপাশে আবারও চিনের সামরিক তৎপরতা বাড়ল। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক চিনের দুটি সামরিক বিমান, নয়টি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি সরকারি জাহাজকে তাদের জলসীমার আশেপাশে শনাক্ত করেছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, চিনা বিমান দুটি তাইওয়ান প্রণালীর মাঝ বরাবর সীমান্ত রেখা (median line) অতিক্রম করে। এরপর তাইওয়ানের উত্তর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে (ADIZ) ঢুকে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, "আজ সকাল ৬টা (UTC+8) পর্যন্ত তাইওয়ানের চারপাশে চিনের ২টি পিএলএ বিমান, ৯টি পিএলএএন জাহাজ এবং ১টি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২টি বিমানই মাঝ বরাবর সীমান্ত রেখা পেরিয়ে তাইওয়ানের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্ব ADIZ-এ প্রবেশ করে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।"
এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবারও তাইওয়ানের কাছে চিনের একটি সামরিক বিমান, আটটি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি সরকারি জাহাজ দেখা গিয়েছিল।
সেদিনও এক্স-এ একটি পোস্টে মন্ত্রক জানিয়েছিল, "আজ সকাল ৬টা (UTC+8) পর্যন্ত তাইওয়ানের চারপাশে চিনের ১টি পিএলএ বিমান, ৮টি পিএলএএন জাহাজ এবং ১টি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। বিমানটি তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম ADIZ-এ প্রবেশ করেছিল। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে এবং জবাব দিয়েছে।"
তাইওয়ানকে চিন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। এই দাবি তাদের জাতীয় নীতির অংশ। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজেদের একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবেই দেখে, যার নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি রয়েছে। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়ার মতে, তাইওয়ানের এই স্থিতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণের মতো নীতিগুলির জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
তাইওয়ানের উপর চিনের দাবির ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৬৮৩ সালে চিং রাজবংশ মিং অনুগত শাসক কক্সিঙ্গাকে পরাজিত করে দ্বীপটি দখল করে। কিন্তু এরপরও তাইওয়ান চিং সাম্রাজ্যের একটি প্রান্তিক অঞ্চল হিসেবেই ছিল। ১৮৯৫ সালে প্রথম চিন-জাপান যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর চিং রাজবংশ তাইওয়ানকে জাপানের হাতে তুলে দেয়। এরপর ৫০ বছর তাইওয়ান জাপানের উপনিবেশ ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর তাইওয়ান চিনের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে, কিন্তু সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। ১৯৪৯ সালে চিনে গৃহযুদ্ধের পর মূল ভূখণ্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (PRC) প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন চিনের পুরনো সরকার, অর্থাৎ রিপাবলিক অফ চায়না (ROC) তাইওয়ানে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকেই সমগ্র চিনের উপর নিজেদের শাসন দাবি করে। এর ফলে দুটি সার্বভৌমত্বের দাবি তৈরি হয়: মূল ভূখণ্ডের উপর PRC-র এবং তাইওয়ানের উপর ROC-র। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়ার মতে, সেই থেকে তাইওয়ান বাস্তবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করলেও চিনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেনি।