Iran War: প্রাক্তন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। হোয়াইট হাউসে এই নিয়ে গোপন বৈঠকও চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। যদিও তিনি কোনও প্রমাণ দেননি।

প্রাক্তন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন এক মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছে। এই নিয়ে হোয়াইট হাউসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নাকি রীতিমতো স্ট্র্যাটেজি মিটিং করছেন। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ গ্রিন লেখেন, এই আলোচনা 'একদম সত্যি'। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের নিয়মকানুন শিথিল করার অভিযোগও তোলেন। তবে এই দাবির সপক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ বা নথি দেননি। এমনকি, বৈঠকে কারা ছিলেন, সেই নামও প্রকাশ করেননি।

ইরান-আমেরিকার যুদ্ধে নতুন মোড়!

গ্রিনের আরও দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টকে নাকি পাত্তাই দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির কাছাকাছিও নেই। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন আসলে ইজরায়েলের কথায় বেশি কান দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকা যদি ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে বিশ্বজুড়ে বড়সড় যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি হবে এবং অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হবে।

গ্রিন লেখেন, "ট্রাম্প তো বিদেশে আর যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন"। তাঁর যুক্তি, এই পদক্ষেপের ফলে একটা বড় বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গ্রিনের এই অভিযোগ নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।

কোন পথে মার্কিন প্রশাসন?

তাছাড়া, মার্কিন সরকার বা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি যে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বা তাদের পরমাণু নীতিতে কোনও বদল এনেছে। ওয়াশিংটন আর তেহরানের মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সামরিক উত্তেজনা চলছে। এই আবহে গ্রিনের এই মন্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

আমেরিকা একদিকে যেমন হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, তেমনই ইরানের ওপর চাপও বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও ওয়াশিংটনের এই মনোভাব মানতে নারাজ। তারা ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে।

ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি তো মার্কিন সৈন্যদের ধরিয়ে দিলে বা হত্যা করলে পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করেছেন, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর কূটনৈতিক চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

প্রাক্তন কংগ্রেস ম্যানের অবস্থান

গ্রিন বরাবরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থক। কিন্তু ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশনীতির সমালোচনা তিনি আগেও করেছেন। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলার পরেও তিনি প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রশাসন বিদেশে যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও তাঁকে ট্রাম্পের বিদেশনীতির বিরুদ্ধে দাঁড় করালো, যদিও তিনি নিজেকে ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবেই দাবি করেন।

ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও, আমেরিকা যে সত্যিই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে, এমন কোনও সরকারি তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে গ্রিনের এই দাবি আপাতত জল্পনাই থাকছে।