
Tibet Earthquake: বিধ্বংসী হড়পা বানের এক সপ্তাহের মধ্যে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা। বৃহস্পতিবার রিখটার স্কেলে পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (German Research Centre for Geosciences) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভূমিকম্পের জেরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আফটার-শকের ফলে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বুধবার তিব্বতের নেপাল (Nepal) সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। প্রবল জলস্রোত ও ধ্বংসাবশেষ তছনছ করে দেয় একাধিক শহর ও উপত্যকা। এই বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বত, দুই দেশেই ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নেপালে অন্তত ১,২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ ৪,২০০-এরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে, তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১। সেখানে এখনও ৫৪১ জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে চিন (China)। হড়পা বানের পর উদ্ধারকার্য ও তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রবল জলস্রোত ও ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের রাস্তা ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারী উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি প্রথমবারের মতো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলিতে পৌঁছতে পারছে। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি গিরিখাতে খননযন্ত্র, উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং জীবিত ব্যক্তির সন্ধানে ব্যবহৃত বিশেষ সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বৃষ্টি, অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল এবং দ্রুতগতির নদীর কারণে ওই অঞ্চলে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তিব্বতে সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অঞ্চলে পরিদর্শন ভবন, পার্কিং লট এবং আবাসিক ভবনের আশপাশে গভীরভাবে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
চিনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, নিখোঁজের তালিকায় আছেন ১০৪ জন নেপালি, ৪৯ জন ভারতীয় এবং ৩৩ জন লাটভিয়ান নাগরিক। তাঁদের মধ্যে অনেকে দু'টি পর্যটক দলের সদস্য ছিলেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের অধিকাংশই তিব্বতের গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থান কৈলাশ পর্বত ও মানস সরোবর ভ্রমণে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, নেপালের উদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রচেষ্টায় আরও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বেজিং। অতিরিক্ত ডিএনএ শনাক্তকরণ বিশেষজ্ঞ এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিন। এর মধ্যে অস্থায়ী বেইলি সেতু, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ রেফ্রিজারেটর এবং যোগাযোগের সরঞ্জাম রয়েছে। ভয়াবহ বানের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই তিব্বতে নতুন করে ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।