
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি শুক্রবার জানিয়েছে যে, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মহম্মদ নাঈনি মারা গেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর থেকে মার্কিন-ইজরায়েলি হানায় ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। নাঈনির মৃত্যু সেই তালিকায় নতুন সংযোজন।
এর আগে বৃহস্পতিবার, ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানায় যে তারা ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিবকে হত্যা করেছে। IDF-এর দাবি, খাতিব মাহসা আমিনি বিক্ষোভের (২০২২-২০২৩) সময় ইরানের সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক অভিযানে যুক্ত ছিলেন।
বুধবার IDF সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে লেখে, "খতম: ইসমাইল খাতিব, ইরানের সন্ত্রাসবাদী সরকারের গোয়েন্দামন্ত্রী, তেহরানে এক নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে তাঁকে শেষ করা হয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে খাতিবের বড় ভূমিকা ছিল, যার মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার ও হত্যা। এছাড়া তিনি বিশ্বজুড়ে ইজরায়েলি ও আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাতেন। একইভাবে, মাহসা আমিনি বিক্ষোভের (২০২২-২০২৩) সময়ও তিনি ইরানের নাগরিকদের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রকের কাছে উন্নত নজরদারি, গুপ্তচরবৃত্তি এবং বিশ্বজুড়ে গোপন অভিযান চালানোর ক্ষমতা রয়েছে, বিশেষ করে ইজরায়েলি এবং ইরানের নাগরিকদের বিরুদ্ধে।"
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মঙ্গলবার ইজরায়েলি বিমান হানায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং আধা-সামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন।
আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান এই ঘটনাকে "প্রিয় সহকর্মীদের কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড" বলে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় তাঁরা "হৃদয়বিদারক কষ্ট পেয়েছেন"। X-এ একটি পোস্টে তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁদের "পথ আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাবে"।
৬৭ বছর বয়সী লারিজানি ছিলেন প্রয়াত আলি খামেনেই এবং তাঁর উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনেই-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সোমবার রাতে এক হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত ১৯ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের আবহে তেহরানের নেতৃত্বে এটিই সবচেয়ে বড় ক্ষতি বলে মনে করা হচ্ছে।
সোলেইমানি গত ছয় বছর ধরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং তাঁকে সামরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হত।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জোর দিয়ে বলেন যে, আলি লারিজানির মতো নেতার মৃত্যুর পরেও দেশের রাজনৈতিক পরিকাঠামো "অত্যন্ত মজবুত" রয়েছে এবং এটি "ইরানের নেতৃত্বের জন্য মারাত্মক আঘাত" হবে না।
আরাগচি বলেন, "আমি জানি না কেন আমেরিকান এবং ইজরায়েলিরা এখনও এই বিষয়টা বুঝতে পারছে না: ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো রয়েছে, যার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান আছে।"
বিদেশমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, "একজন ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এই কাঠামোর উপর কোনও প্রভাব ফেলে না।" তিনি উল্লেখ করেন, "ব্যক্তিরা প্রভাবশালী এবং প্রত্যেকেই নিজের ভূমিকা পালন করে—কেউ ভালো, কেউ খারাপ, কেউ কম—কিন্তু আসল বিষয় হল ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত মজবুত কাঠামো।"
আরাগচি দেশের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর কথাও মনে করিয়ে দেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি নিহত হয়েছিলেন। আরাগচি বলেন, সেই বিরাট ক্ষতি সত্ত্বেও "ব্যবস্থা চলতে থেকেছে"।