মুখ পুড়লো পাক সেনাপ্রধানের! ভারতের চাপের মুখে আমেরিকার পায়ে পড়েছিল পাকিস্তান, ফাঁস করলেন ট্রাম্প

Published : May 16, 2026, 08:41 AM IST
Trump Claims Ceasefire Was a Favor to Pakistan Contradicting Munirs Statement

সংক্ষিপ্ত

Donald Trump: ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করিয়েছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে। কিন্তু মুনিরের দাবি ছিল, ভারতই আমেরিকার কাছে মধ্যস্থতার জন্য গিয়েছিল। মার্কিন নথি বলছে অন্য কথা। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি তিনি করিয়েছিলেন, তা আসলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে করা একটা 'উপকার' ছিল। অ্যাঙ্কোরেজ যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এখনও পর্যন্ত তিনি যতগুলো যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন, তার সবই অন্য দেশের অনুরোধে। তিনি বলেন, "আমরা সত্যি বলতে অন্যান্য দেশের অনুরোধেই যুদ্ধবিরতিটা করিয়েছিলাম। আমি নিজে এর পক্ষে ছিলাম না, কিন্তু পাকিস্তানের জন্য এটা করেছিলাম। ওখানকার ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী, দুজনেই চমৎকার মানুষ।" যদিও ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার দাবি করেছিলেন অপারেশন সিঁদুরের সময় যে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ বিরতি হয়েছে তারই নির্দেশে। তিনি বলার পরই দুই দেশ অস্ত্র ত্যাগকরে। কিন্তু তখন বলেননি কোন দেশ তাঁর কাছে যুদ্ধ বিরতির দরবার করেছে। এবার তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানই যুদ্ধ বিরতি নিয়ে দরবার করেছে।

সম্পূর্ণ উল্টো দাবি আসিম মুনিরের

ট্রাম্পের এই মন্তব্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের দাবির একেবারে উল্টো। মুনির সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ভারতই যুদ্ধবিরতির জন্য আমেরিকার কাছে গিয়েছিল। কিন্তু মার্কিন নথি বলছে, ভারত 'অপারেশন সিন্দুর' শুরু করার পর ইসলামাবাদই ওয়াশিংটনে ব্যাপক কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। রবিবার রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান আর্মির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স (GHQ)-এ একটি অনুষ্ঠানে স্ব-ঘোষিত ফিল্ড মার্শাল মুনির বলেন, "ভারতই আমেরিকার নেতৃত্বের মাধ্যমে মধ্যস্থতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে পাকিস্তান তা মেনে নেয়।"

আমেরিকার তথ্য কী বলছে?

এই খবর প্রকাশ করে ডন নিউজ। কিন্তু আমেরিকার সরকারি নথি বলছে একেবারে অন্য কথা। মার্কিন ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট (FARA)-এর নথি ঘেঁটে সংবাদসংস্থা ANI দেখেছে, ২০২৫ সালের ৬ থেকে ৯ মে-র মধ্যে পাকিস্তান প্রায় ৬০ বার মার্কিন আইনপ্রণেতা, কংগ্রেসের সহযোগী, প্রতিরক্ষা আধিকারিক, ট্রেজারি কর্তা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই রেকর্ড থেকে স্পষ্ট যে, ভারত যখন পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাবে 'অপারেশন সিন্দুর' শুরু করে, তখন পাকিস্তান ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে দরবার করছিল। এই অপারেশনের আওতায় পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoJK) থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালায় ভারত। 'অপারেশন সিন্দুর' শুরু হওয়ার পর ভারত স্পষ্ট করে দেয় যে, এটি পাকিস্তান ও PoJK জুড়ে জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করার জন্য তিন বাহিনীর সম্মিলিত অভিযান। ২০২৫ সালের ৬ এবং ৭ মে-র মধ্যবর্তী রাতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

India-Russia Ties: প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চায় রাশিয়া
পাকিস্তান নয়, ভারতই সেরা! আমেরিকা-ইরান বিবাদে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাকে বাছল রাশিয়া?