
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের জেরে বিশ্ব বাজারে তোলপাড়। হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তোলা হবে না, যতক্ষণ না ইরান চুক্তি মানছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের গণ্ডি টপকে গেল। এর কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া হুঁশিয়ারি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ইরান আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ চলবে। বুধবার Axios-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর চাপ বাড়াতেই এই অবরোধকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। ট্রাম্প Axios-কে বলেন, "বোমা ফেলার চেয়ে এই অবরোধ অনেক বেশি কাজের। ওদের অবস্থা এখন দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো। ওদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ওরা পরমাণু অস্ত্র হাতে পেতে পারে না।" Axios-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান প্রথমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং অবরোধ তোলার প্রস্তাব দিয়েছিল, তারপর পরমাণু আলোচনা শুরু করার কথা বলে। কিন্তু ট্রাম্প সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন। উল্টে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আগে আমেরিকার শর্ত মানতে হবে, তারপরই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাবা হবে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প আপাতত অবরোধকেই মূল অস্ত্র হিসেবে দেখছেন। তবে ইরান আলোচনায় না বসলে তিনি সামরিক পদক্ষেপের কথাও ভাবতে পারেন। যদিও সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।
পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী শক্তি পরিবহণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ, তাই এখানে দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ চললে বিশ্ব বাজারে তার প্রভাব পড়বেই। এই পরিস্থিতিতে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক পরিণতির মুখে পড়তে পারে।
FICCI লেজেন্ড সিরিজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।" তিনি বুঝিয়ে দেন, সরবরাহ ঘাটতি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, "অনেকেই আশা করছেন যে এই ঘাটতি মিটে যাবে... কিন্তু তা না হলে দাম বাড়তেই থাকবে।"
স্যাক্সের মতে, বিশ্বজুড়ে শক্তি বাজারে এখন একটা টলমলে অবস্থা চলছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাড়তে থাকা তেলের দাম—এই দুইয়ের জেরে বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের জোগান আরও কমবে এবং দাম আরও চড়বে, এই আশঙ্কায় বিশ্ব বাজার এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।