
Trump India China Hellholes Comment Controversy: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ঘিরে বড়সড় কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ভারত এবং চিনকে "নরক (hellholes)" বলেছেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (birthright citizenship) নিয়ে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ার করার সময় এই মন্তব্যটি সামনে আসে। এই বয়ানটিকে একাধিক দেশ অপমানজনক বলে মনে করায় আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
মুম্বইতে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া এবং ব্যাঙ্গাত্মক জবাব দিয়েছে। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে X (আগের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে মহারাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। পোস্টে বলা হয়, ভারত এবং চিন হলো "সভ্যতার পীঠস্থান"। ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে তারা লেখে, সম্ভবত তাঁর একটি "সাংস্কৃতিক ডিটক্স" দরকার এবং ভারতে এসে বাস্তবটা তাঁর নিজের চোখে দেখা উচিত। এই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় মার্কিন দূতাবাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের তরফে বলা হয়, ট্রাম্প ভারতকে একটি "মহান দেশ" এবং "ভালো বন্ধু" বলে মনে করেন। তবে, ট্রাম্প কখন এই ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন, সেই বিষয়ে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এই অস্পষ্টতা বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিতর্কিত মন্তব্যটি আসলে রক্ষণশীল লেখক মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্টের অংশ। সেখানে তিনি আমেরিকার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতির সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প সেই আলোচনার একটি অংশ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ শেয়ার করেন, যেখানে ভারত ও চিনকে নেতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আমেরিকায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এমন সংবেদনশীল সময়ে এই ধরনের মন্তব্য রাষ্ট্রপতি পদের गरिমাকে আঘাত করে। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্প গুরুতর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের বদলে রাজনৈতিক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মুখপাত্র বলেন, এই মন্তব্যগুলি "অনুচিত, ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে করা এবং কুরুচিপূর্ণ"। মন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মান এবং স্বার্থের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ধরনের মন্তব্য দু'দেশের আসল সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে না।
যদিও এই বিতর্কটি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ, তবে এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সংবেদনশীলতার বিষয়টি আবার সামনে এনেছে। ইরানের কটাক্ষ এবং ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া পুরো বিষয়টিকে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।