Delhi Restaurant Fire: নয়াদিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ দিল্লির হাউজ রানি এলাকার জনপ্রিয় লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে।
Delhi Restaurant Fire: নয়াদিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার সকালে দক্ষিণ দিল্লির হাউজ রানি এলাকার জনপ্রিয় লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। দমকল ও উদ্ধারকারী বাহিনীর তৎপরতায় বহু মানুষকে উদ্ধার করা হলেও এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। বুধবার, সকালে দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বহুতল ভবনটির বেসমেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

রেস্তোরাঁর বেসমেন্টে আটকে পড়েন বহু কর্মী
সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কাছে আগুন লাগার খবর পৌঁছায়। খবর পেয়েই একাধিক দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দমকলকর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। ঘটনার সময় রেস্তোরাঁর বেসমেন্টে বহু কর্মী ও অতিথি আটকে পড়েন। উদ্ধারকারী দল দ্রুত অভিযান শুরু করে এবং বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রথমে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও অন্তত ১১ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দেখুন ভিডিও
গোটা এলাকা ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে
প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুন লাগার পর গোটা এলাকায় ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। দূর থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল। এর ফলে মালব্য নগর ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
দেখুন ভিডিও
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
দিল্লি পুলিশ, দমকল বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এখনও ভবনের ভেতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও পৌঁছেছেন। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। শর্ট সার্কিট, রান্নাঘর সংক্রান্ত ত্রুটি বা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আগুন লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর আবারও দিল্লির বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং বেসমেন্ট-চালিত ব্যবসাগুলির নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি এখনও চলছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে চলার এবং কোনও ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা দেখলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে।

