
ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ। বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে মারাত্মক জ্বালানি সংকট। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মিত্র দেশ, বিশেষ করে ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। এই দেশগুলো জেট ফুয়েলের অভাবে ভুগছে।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "হরমুজ প্রণালীর জন্য যে সব দেশ জেট ফুয়েল পাচ্ছে না, যেমন ব্রিটেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে আমাদের পাশে ছিল না, তাদের জন্য আমার একটা পরামর্শ আছে: এক নম্বর, আমেরিকার থেকে তেল কিনুন, আমাদের কাছে প্রচুর আছে। আর দুই নম্বর, একটু সাহস দেখান, প্রণালীতে যান আর তেলটা ছিনিয়ে নিন। নিজেদের লড়াই এবার নিজেদেরই লড়তে শিখতে হবে। আমেরিকা আর তোমাদের সাহায্য করতে আসবে না, যেমনটা তোমরা আমাদের পাশে ছিলে না। ইরানকে তো প্রায় শেষই করে দেওয়া হয়েছে। কঠিন কাজটা হয়ে গেছে। এবার যাও, নিজেদের তেল নিজেরা নিয়ে এসো! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।"
ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে সমর্থন না করা এবং পারস্য উপসাগরের এই জ্বালানি সংকটের জন্য মিত্র দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন সরাসরি তিরস্কার আগে দেখা যায়নি।
মনে করা হচ্ছে, ইরানের সামরিক পদক্ষেপের কারণেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের জোগান কমেছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ছে। ট্যাঙ্কারের যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক দেশেই জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারগুলো এখন অন্য জায়গা থেকে তেল জোগাড় করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, সমুদ্রপথে যাতায়াত করা মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই যায়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ইউরোপের শোধনাগারগুলোতেই নয়, বরং গোটা বিশ্ব বাজারেই এর প্রভাব পড়ছে, বাড়ছে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের দাম।
প্রেসিডেন্টের এই বার্তা, যেখানে তিনি মিত্রদের হয় মার্কিন তেল কিনতে অথবা নিজেরাই সামরিক পদক্ষেপ নিতে বলছেন, তা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুতর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আবহে আমেরিকা ও তার মিত্রদের মধ্যেকার পরিবর্তনশীল সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দেয়।