
Typhoon Dolphin:ধেয়ে আসছে চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় 'ডলফিন' (Typhoon Dolphin)। টাইফুন ডলফিন-এর প্রাথমিক তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চিনের পূর্ব উপকূল এলাকায়। ঘণ্টায় প্রায় ১৬২ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে চলা এই টাইফুনের জেরে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা চিনের যোগাযোগব্যবস্থা ও জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে ঘূর্ণিঝড় ডলফিনকে ঘিরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা 'লাল সতর্কতা (Red Alert)' জারি করেছে চিনের আবহাওয়া দফতর। মঙ্গলবারের মধ্যেই চিনের একটা অংশকে পুরো ধ্বংসস্তুপে পরিণত করতে পারে 'টাইফুন ডলফিন'।
ঝড়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চিনের অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাংহাই এবং পার্শ্ববর্তী ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশ। সাংহাইয়ের দুই প্রধান বিমানবন্দর,পুডং এবং হংকিয়াও থেকেই বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১,৩৮৪টি উড়ান। সব মিলিয়ে এলাকাটিতে বাতিল বিমানের সংখ্যা ১,৬০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। রবিবার সাংহাইয়ের বিমানবন্দরগুলিতে সূচিমুখী বিমানগুলির প্রায় ৬০ শতাংশই বাতিল রাখতে হয়। ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ বিমানবন্দরেও ২৭০টির বেশি বিমান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
বিমান চলাচলের পাশাপাশি পূর্ব চিনের সার্বিক পরিবহন পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সাংহাই, ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান জুড়ে ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রভিত্তিক সমস্ত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ২০০টিরও বেশি ফেরি রুট। সাংহাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইয়াংশান পোর্ট এবং নিংবো-ঝুশান পোর্টের সমস্ত জাহাজ নিরাপদ আশ্রয়ে সরাতে বাধ্য হয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
ঝড়ের সম্ভাব্য ধ্বংসলীলা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলগুলি থেকে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ শহর থেকেই সরানো হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার বাসিন্দাকে। সাংহাইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে। এ ছাড়া ফুজিয়ান প্রদেশ থেকেও প্রায় ৯৯,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করেছে উদ্ধারকারী দল। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্ত ট্রলার বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাত ও ধসের চরম আশঙ্কা
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, উপকূল ছুয়ে স্থলভাগে প্রবেশের পর টাইফুন 'ডলফিন'-এর জেরে আগামী কয়েক দিন ধরে এলাকা জুড়ে ২০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে ভয়াবহ বন্যা ও মারাত্মক ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
জাপানে তাণ্ডব টাইফুন ডলফিনের
চিনে আঘাত হানার আগে টাইফুন ডলফিন জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে তাণ্ডব চালায়। সেখানে প্রচণ্ড ঝড়ে একাধিক মানুষ আহত হন এবং ৫০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। চিনের উপকূল পার করার পর স্থলভাগের দিকে এগোতে এগোতে টাইফুনটির তীব্রতা কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হলেও, এর ফলে তৈরি হওয়া বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।