
ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে আমেরিকার গোপন বৈঠক ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগর এবং বাব-আল-মান্দেব প্রণালীতে হুথিদের ক্রমবর্ধমান দাপটের মধ্যেই মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের উপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ওমানের মাসকটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি নেতৃত্বের সঙ্গে মার্কিন কর্তাদের বৈঠক হয়। আলোচনায় হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আগ্রহী। পাশাপাশি আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলি এখনও তাদের হামলার নিশানায় থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল বরাবর দ্রুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে হুথিরা। বাব-আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার ফলে সৌদি আরবের তেল রফতানির পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাব-আল-মান্দেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এই প্রণালী। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্য ব্যবস্থাতেই প্রভাব পড়তে পারে। হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির ফলে সৌদি আরবের তেল পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। সৌদি তেল পরিকাঠামোয় হামলা এবং লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। যদিও বিকল্প পথে তেল সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে রিয়াধ।
এদিকে আমেরিকা সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যেতে কতটা আগ্রহী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মার্কিন-হুথি আলোচনার পর ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে আগের মতো সরাসরি সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার উত্তেজনা, অন্যদিকে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি—সব মিলিয়ে সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং তেল রফতানি নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বাব-আল-মান্দেবের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বিভিন্ন দেশের জ্বালানি সরবরাহের উপর। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে রয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে—হুথিদের সঙ্গে আমেরিকার এই আলোচনা কি লোহিত সাগরে উত্তেজনা কমানোর কৌশল, নাকি এর ফলে সৌদি আরবই আরও একা হয়ে পড়ছে?