
আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ছাড় তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র নিন্দা জানাল ইরান। পাল্টা ‘জোরালো’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। ইরানের ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে আমেরিকার এই পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, আমেরিকার সাম্প্রতিক কার্যকলাপ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (Islamabad MoU) ১, ২ এবং ১০ নম্বর ধারার "প্রকাশ্য লঙ্ঘন"।
ডেপুটি বিদেশমন্ত্রীর মতে, "লেবাননে জায়নবাদী শাসকদের কার্যকলাপ এবং ইরানের বিরুদ্ধে হুমকির" কারণে ওয়াশিংটন ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। এই উত্তেজনার পর গুরুতর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমেরিকার এই চুক্তি লঙ্ঘনের পরিণতির বিষয়ে ইরান গুরুতর সতর্কবার্তা দিচ্ছে। নিজের জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তেহরান নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে।" একইসঙ্গে, ইরানের বিদেশমন্ত্রকও এই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের নিন্দা করে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং "এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণতির জন্য মার্কিন সরকারই দায়ী থাকবে।"
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের সুবিধাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এরপরেই ইরানের তরফে এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসে। গত মাসে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অধীনে এই লাইসেন্স জারি করা হয়েছিল। এর ফলে ৬০ দিনের জন্য ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর তরফে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর জানানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই আমেরিকা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। এই কৌশলগত জলপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাগুলির মধ্যে এটি সর্বশেষ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই জলপথ।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই হামলা এপ্রিলের শেষের পর থেকে একদিনে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ সংখ্যক হামলার ঘটনা। এই ঘটনাগুলি গুরুত্বপূর্ণ করিডোরের মাধ্যমে সামুদ্রিক যান চলাচল ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যখন আন্তর্জাতিক মহল স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার করে সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) অনুসারে, ওমানের উপকূলের কাছে একটি ট্যাঙ্কারে হামলার পর আগুন ধরে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ট্যাঙ্কারটিতে হামলা চালানো হয়। যদিও সম্প্রচারকারী সংস্থাটি এই হামলার দায় স্পষ্টভাবে স্বীকার করেনি।
বাকি দুটি জাহাজের সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং তারা তাদের যাত্রা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনায় কেউ আহত হননি। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে হরমুজ প্রণালীর মধ্যে শুধুমাত্র তাদের নির্ধারিত পথই নিরাপদ। ওমানি উপকূলের কাছাকাছি একটি বিকল্প পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলিতে হামলার জন্য আগেও ইরানের দিকে সন্দেহের আঙুল উঠেছে। UKMTO দ্বারা প্রকাশিত অবস্থান তথ্য থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবারের তিনটি হামলাই ওমান বা প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূলের কাছে ঘটেছে, যা থেকে বোঝা যায় জাহাজগুলি সেই নির্দিষ্ট বিকল্প পথটিই ব্যবহার করছিল।