
Viral News: দেশের চারদিকে আনন্দের পরিবেশ। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়লেন এক প্রবাসী যুবক। খবর পেলেন, অসুস্থ তাঁর মা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মায়ের কাছে পৌঁছতে হবে। কিন্তু কাঠমান্ডু থেকে বাড়ি ফেরার বিমানের টিকিট মিলছে না। শেষ পর্যন্ত আর কোনও উপায় না দেখে সাড়ে ১৩ লাখ নেপালি রুপি খরচ (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা) করে ভাড়া করলেন আস্ত একটি হেলিকপ্টার! মায়ের কাছে পৌঁছতে এক মুহূর্তও দেরি করতে চাননি তিনি। নেপালের এই ঘটনা এখন চর্চায়।
ঘটনাটি নেপালের সুদূর পশ্চিমাঞ্চলের কঞ্চনপুর জেলার। ওই যুবকের নাম ভক্তরাজ ভট্ট। তিনি ভিমদত্ত পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এটপুরের বাসিন্দা। তবে গত প্রায় ১০ বছর ধরে ইংল্যান্ডে থাকেন তিনি। দীর্ঘ দিন পর দেশে ফিরেছিলেন পরিবারের সঙ্গে দশৈঁ উৎসব, অর্থাৎ বিজয়াদশমী উদযাপন করতে। কিন্তু দেশে ফিরেই মায়ের অসুস্থতার খবর পান। আর তার পরেই বদলে যায় সব হিসাব।
দেখুন কপ্টারে চড়ে গ্রামে মায়ের কাছে এলেন প্রবাসী যুবক
काठमाडौँबाट धनगढीको हवाइ टिकट नपाएपछि १३ लाख ५० हजारमा हेलिकप्टर रिजर्भ गरेर आमालाई भेट्न महेन्द्रनगर पुगे एक युवा। https://t.co/oBucqbdORn
— Nirmal Prasai🇳🇵 (@NirmalPrasai5) October 14, 2026
দশৈঁ নেপালের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম। অনেকটা আমাদের দুর্গাপুজোর মতই। এই সময়ে বহু মানুষ কাজের জায়গা থেকে বাড়ি ফেরেন। ফলে কাঠমান্ডু থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার বিমানে যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। বিশেষ করে দূর পশ্চিমাঞ্চলের দিকে যাওয়ার টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় বেশি টাকা দিয়েও টিকিট মেলে না। ভক্তরাজের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ছিল একই। মায়ের কাছে দ্রুত পৌঁছনোর তাড়া। অথচ নিয়মিত বিমানের টিকিট নেই। সড়কপথে কাঠমান্ডু থেকে কঞ্চনপুর পৌঁছতেও দীর্ঘ সময় লাগে। তার উপর পাহাড়ি রাস্তা, যানজট এবং আবহাওয়ার কারণে যাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত আর অপেক্ষা না করে বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সাড়ে ১৩ লাখ নেপালি রুপিতে হেলিকপ্টার ভাড়া!
জানা গিয়েছে, সিমরিক এয়ারের একটি হেলিকপ্টার ভাড়া করেন ভক্তরাজ। কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি মহেন্দ্রনগর পৌঁছতে খরচ হয় ১৩ লাখ ৫০ হাজার নেপালি রুপি। ভারত সীমান্তের কাছে অবস্থিত মহেন্দ্রনগর কঞ্চনপুর জেলার অন্যতম প্রধান শহর। মঙ্গলবার ভক্তরাজ-সহ মোট চার জন যাত্রীকে নিয়ে কাঠমান্ডু থেকে রওনা দেয় হেলিকপ্টারটি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা পৌঁছে যান মহেন্দ্রনগরে। বিমানের টিকিট না পেয়ে মায়ের কাছে ফেরার জন্য এত বিপুল টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক ভাবেই নজর কেড়েছে।
মহেন্দ্রনগরে হেলিকপ্টার অবতরণ করতেই স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। এত টাকা খরচ করে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফিরেছেন এক প্রবাসী, খবর ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। স্থানীয় রীতি মেনে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তাঁকে স্বাগতও জানানো হয়। ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।
তার পর থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকের মতে, মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে ছেলের এমন সিদ্ধান্ত তাঁর পরিবারের প্রতি টান এবং দায়িত্ববোধেরই পরিচয়। আবার কারও প্রশ্ন, উৎসবের সময়ে সাধারণ মানুষকে কেন বিমানের টিকিটের জন্য এমন সমস্যায় পড়তে হবে? যাঁদের পক্ষে হেলিকপ্টার ভাড়া করা সম্ভব নয়, তাঁদের উপায় কী?
সব মিলিয়ে, ভক্তরাজের এই ঘটনা শুধু এক প্রবাসীর মায়ের কাছে ফেরার কাহিনি নয়। উৎসবের মরশুমে নেপালের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা এবং টিকিটের চাহিদা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রয়েছে একটাই বিষয়, মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁর কাছে দ্রুত পৌঁছতে চেয়েছিলেন ভক্তরাজ। আর সেই তাগিদেই সাড়ে ১৩ লাখ নেপালি রুপি খরচ করে ভাড়া করলেন হেলিকপ্টার।