Iran War: ইরান তো এবার হার মানবেই, G7 নেতাদের কাছে ট্রাম্পের দাবির পরেই মোজতাবার হুঁশিয়ারি

Published : Mar 13, 2026, 03:33 PM IST
West Asia Conflict Trump and Mojtaba Threaten Each Other

সংক্ষিপ্ত

Trump Vs Mojtaba: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প G7 দেশগুলোকে জানিয়েছেন যে ইরান প্রায় আত্মসমর্পণের মুখে। Axios-এর রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে। যদিও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই বদলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং ট্রাম্প নিজেও ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার G7 দেশগুলোর নেতাদের এক কলে জানান যে ইরান প্রায় আত্মসমর্পণ করার মুখে। Axios নিউজ ওয়েবসাইট তিন G7 দেশের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে। এই কলের পরেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং দেশের নাগরিকদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেন। Axios-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প এই যুদ্ধ নিয়ে জনসমক্ষে যতটা আত্মবিশ্বাসী, ব্যক্তিগত আলোচনাতেও ঠিক ততটাই ছিলেন। তবে, আজ ট্রাম্প ইরানের ইসলামিক শাসনের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, আজ কী ঘটতে চলেছে তার জন্য যেন তারা তৈরি থাকে। রিপোর্ট যা-ই বলুক না কেন, সংঘাতে আমেরিকাই জিতছে বলে তিনি দাবি করেন।

ট্রাম্পের বার্তা

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, "আমরা ইরানের সন্ত্রাসবাদী শাসনকে সামরিক, অর্থনৈতিক এবং অন্য সব দিক থেকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিচ্ছি। কিন্তু আপনি যদি 'ফেলিং নিউ ইয়র্ক টাইমস' পড়েন, তাহলে ভুল করে ভাববেন যে আমরা জিতছি না। ইরানের নৌবাহিনী শেষ, তাদের বিমানবাহিনী আর নেই, মিসাইল, ড্রোন এবং বাকি সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের নেতাদের পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে অতুলনীয় firepower, অফুরন্ত গোলাবারুদ এবং প্রচুর সময় আছে – আজ এই উন্মাদ বদমাশগুলোর কী হয় দেখুন। ওরা ৪৭ বছর ধরে সারা বিশ্বে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, আর এখন আমি, আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে, তাদের হত্যা করছি। এটা করতে পারাটা একটা বিরাট সম্মানের বিষয়।"

ইরানের বার্তা

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে যে তারা তাদের 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর ৪৪তম পর্যায় শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল অধিকৃত এলাকা এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে নিশানা করা হয়েছে।

IRGC জানিয়েছে, এই অভিযান শুরু হয়েছে 'খাইবার শেকান' মিসাইলের ভারী বর্ষণ দিয়ে। প্রতিটি মিসাইল এক টনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এই হামলায় প্যালেস্তিনীয় ভূখণ্ডে ইজরায়েলি সামরিক অবস্থান, তেল আভিভ, এইলাত এবং পশ্চিম আল-কুদস-সহ একাধিক কৌশলগত জায়গায় আঘাত হানা হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল আনবিয়া হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের বিরুদ্ধে "শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়বে"। তিনি আরও যোগ করেন, শত্রুকে "তার অপরাধের জন্য মূল্য চোকাতে বাধ্য করা হবে।"

এর আগে, CNN-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্ভবত এটা আঁচ করতে পারেনি যে মার্কিন সামরিক হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে।

CNN-এর সূত্র অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার সময় পেন্টাগন এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল পুরোপুরি অনুমান করতে পারেনি যে ইরান এই জলপথ বন্ধ করার চেষ্টা করবে। যদিও মার্কিন সেনার কাছে এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই আপৎকালীন পরিকল্পনা ছিল।

অভিযান শুরুর আগে কিছু পরিকল্পনা বৈঠকে আমেরিকার শক্তি ও অর্থ দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও, CNN-এর সূত্র বলছে যে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত যে ধরনের বিস্তারিত অর্থনৈতিক পূর্বাভাস এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিশ্লেষণ করা হয়, তা আলোচনার কেন্দ্রে ছিল না।  ইতিমধ্যেই এই সংঘাত ১৩ দিনে পা দিয়েছে এবং কোনও পক্ষই পিছু হটার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

যুদ্ধের আবহে এলপিজি সংকটে ফলে গেল জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী? ২০২৫-এর সেই চাঞ্চল্যকর টুইট ভাইরাল
Narendra Modi: ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ, ফোনে মোদী কথা বলেন ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে